কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ডুবে মারা গেছে স্থানীয় তিনজন। সমুদ্রে ডুবে নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকার নাট্যকার ফারুক হোসেনসহ দুজন।
জোয়ার-ভাটার হিসাব না করে পর্যটকদের অনেকে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে বিপদে পড়ছে। এ ব্যাপারে পর্যটকদের সতর্ক করতে সৈকতে মাইকযোগে প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রোববার দুপুরে শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে প্যাঁচারদ্বীপ সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন ঢাকার নাট্যকার ফারুক হোসেন (৩৪)। ঈদের দিন তিনি অন্য পাঁচজনের সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন। ওঠেন প্যাঁচারদ্বীপের ‘মারমেইড ইকো বিচ রিসোর্টে’। ফারুক নীলফামারীর পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি থাকেন রাজধানীর পরীবাগে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ফারুকের সন্ধান মেলেনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ জানান, রোববার দুপুরে কবি নির্মলেন্দু গুেণের মেয়ে নাট্যনির্মাতা মৃত্তিকা গুমণসহ পাঁচজনের সঙ্গে ফারুক হোসেন মারমেইড বিচ রিসোর্টের সামনের সৈকতে নামেন। এ সময় উত্তাল জোয়ারের তোড়ে ফারুক হোসেন ডুবে যান। ফারুকের সন্ধানে সৈকতে পুলিশের নেতৃত্বে ডুবুরিদের তল্লাশি অভিযান চলছে।
সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন মজুমদার জানান, কবি নির্মলেন্দু গুণের মেয়ে মৃত্তিকা গুেণসহ পাঁচজনের সঙ্গে নাট্যকার ফারুক হোসেন কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন। নির্মলেন্দু গু্ণের উপন্যাস কালো মেঘের ভেলা অবলম্বনে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য দিচ্ছেন ফারুক হোসেন।
মারমেইড বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান জানান, বৈরী পরিবেশে সমুদ্র উত্তাল থাকায় তাঁরা অতিথিদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করছেন। পর্যটকদের সতর্ক করতে তাঁরা সমুদ্র উপকূলে উত্তোলন করেন বহু লাল পতাকা। তারপরও অনেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমুদ্রে নেমে বিপদে পড়ছেন। মাহফুজুর রহমান জানান, সোমবার (গতকাল) সকালে মৃত্তিকা গু্ণসহ অপর পাঁচজন ঢাকার উদ্দেশে মারমেড বিচ রিসোর্ট ত্যাগ করেন। তখন পর্যন্ত ফারুক হোসেনের সন্ধান মেলেনি।
রোববার দুপুরে ইনানী সৈকতে ডুবে মারা গেছেন মো. রুবেল নামের আরেক তরুণ। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। বেলা সাড়ে তিনটায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, ইনানী সৈকতে ফুটবল খেলার সময় রুবেল পাশের খালে পড়ে যায়। এ সময় খালের ওপর দিয়ে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে ভেসে রুবেল সাগরে হারিয়ে যায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, শুক্রবার সৈকতের শৈবাল পয়েন্টে ডুবে মারা গেছে কক্সবাজার শহরের চাউলবাজার সড়কের ক্য ম্যো হিন ও টেকপাড়ার ইমন চৌধুরী নামে রাখাইন সম্প্রদায়ের দুই কিশোর। নিখোঁজ রয়েছেন শহরের চাউলবাজার এলাকার ন্যু-রি রাখাইনের ছেলে ওয়াইন রাখাইন (১৮)। ওই দিন বিকেল পাঁচটায় সৈকতে রাখাইনদের ‘বর্ষা উৎসব’ শেষ করে এই তিন কিশোর সমুদ্রে গোসলে নামে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, নিখোঁজ ওয়াইনের সন্ধানে উপকূলে কোস্টগার্ড ও পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।
সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত ইয়াছির লাইফ গার্ড স্টেশনের পরিচালক ও নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ডুবুরি মোস্তফা কামাল জানান, ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সৈকত ভ্রমণে আসছে। কিন্তু জোয়ার-ভাটার হিসাব না করে উত্তাল সমুদ্রে নেমে অনেকে বিপদে পড়ছে। গত তিন দিনে স্থানীয় ডুবুরিরা সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার সময় ১১ জন পর্যটককে উদ্ধার করেন।