
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ করোনা পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জীবন বাঁচানো প্রথম অগ্রাধিকার হলেও জীবন বাঁচিয়ে রাখতে জীবিকার গুরুত্বও অনস্বীকার্য। তাই জীবন-জীবিকাকে সচল রাখতে হলে আমাদের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে।’ এ জন্য দরকার দেশের প্রতিটি নাগরিককে পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অর্থাৎ মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা।
আজ শুক্রবার বঙ্গভবনের দরবার হলে মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমাদের চারপাশে থাকা অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
চারপাশে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ঈদুল ফিতর আমাদের এই আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। আমাদের চারপাশে অনেক অসহায় ও বিপন্ন মানুষ, তারা যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সাধ্যমতো চেষ্টা চালাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ অসচ্ছল ও অসহায় মানুষের সাহায্যে সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখবে।’
এ বছর এমন একটা সময়ে ঈদ উদ্যাপিত হচ্ছে যখন গোটা বিশ্ব করোনাভাইরাসের সংক্রমণে চরমভাবে বিপর্যস্ত। বাংলাদেশের জনগণের জীবন-জীবিকাও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ইতিমধ্যে করোনায় বিশ্বব্যাপী ৩৩ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কোটি কোটি মানুষ কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন দিয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব নয়।’
সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি বিপন্ন মানুষের সহায়তায় সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। টিকা নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তারও সমাধান হয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।