করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী এক লাখের বেশি রয়েছে—বিশ্বে এমন দেশের সংখ্যা এখন বাংলাদেশসহ ২২টি। এসব দেশের মধ্যে করোনা শনাক্তের পরীক্ষার দিক থেকে একেবারে তলানিতে রয়েছে বাংলাদেশ ও মেক্সিকো। সর্বনিম্ন অবস্থানে সকালে বাংলাদেশের থাকলে দুপুরের পর সে জায়গা ‘দখল’ করে নিচ্ছে মেক্সিকো।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনাবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য দিয়ে আসছে পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত করোনা শনাক্তের পরীক্ষার দিক থেকে ওই ২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল সর্বনিম্ন। কিন্তু আড়াইটায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিং শুরু হওয়ার পর তথ্য হালনাগাদ করে ওয়ার্ল্ডোমিটারস। তখন দেখা যায় বাংলাদেশ তলানি থেকে এক ধাপ এগিয়েছে আর পেছনে চলে গেছে মেক্সিকো।
বাংলাদেশে এখন প্রতি ১০ লাখে ৬ হাজার ২৯ জনের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর মেক্সিকোতে প্রতি ১০ লাখে পরীক্ষা হচ্ছে ৫ হাজার ৯৫৮ জনের।
দেশে কয়েক দিন ধরে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা কম হওয়ায় জনসংখ্যা অনুপাতেও পরীক্ষার দিক থেকে আরও পিছিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে তিন ধাপ পিছিয়ে এখন বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৮তম। ৩ জুলাই থেকে দেশে পরীক্ষার সংখ্যা কমে যাওয়ায় রোগী শনাক্তের সংখ্যাও কমে গেছে। তবে পরীক্ষা কম হলেও বাংলাদেশে পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার বেশি। এখন পর্যন্ত গড়ে শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। করোনা রোগীর দিক থেকে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে শুধু মেক্সিকো, ব্রাজিল ও চিলিতে পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার বেশি।
জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, পরীক্ষা কম হলেও শনাক্তের হার কমছে না। আবার প্রতিদিন রোগী শনাক্তের যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তা দেশের প্রকৃত চিত্র নয়। পরীক্ষা বাড়িয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আইসোলেশনের (বিচ্ছিন্নকরণ) ব্যবস্থা না করলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।