
দুটি ট্যাংকারের মধ্যে সংঘর্ষের পাঁচ দিন পরও কর্ণফুলী নদীতে ভাসছে জ্বালানি তেল। জোয়ার-ভাটার টানে দুর্ঘটনাস্থল থেকে (ডাঙার চর) নদীর নয় কিলোমিটার উজানে তেল ভাসতে দেখা যায়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে ভাটির দিকে নদীতীরের ঘাস ও ঝোপঝাড়ে তেলের কালো আস্তরণ লেগে থাকতে দেখা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নৌকায় ঘুরে নদীতে তেলদূষণের এই দৃশ্য দেখা যায়।
গত শনিবার রাতে কর্ণফুলী নদীর ডাঙার চর এলাকায় ‘এমটি আরজু’ ও ‘এমটি মার্কেন্টাইল-১৮’ নামের দুটি ট্যাংকারের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় এমটি আরজুর ট্যাংকার ফুটো হয়ে জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ে।
কর্ণফুলী নদীর মাঝিরা বলেন, দুর্ঘটনার পর জোয়ার-ভাটার টানে কিছু তেল সাগরের দিকে চলে গেছে। এখনো নদীর বিভিন্ন অংশে তেল ভাসছে।
কর্ণফুলী নদীতে জ্বালানি তেলের দূষণের কারণে মাছসহ জলজ প্রাণী হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরীয়া। তিনি বলেন, জোয়ার-ভাটার টানে এই তেল ফসলি জমিতে গেলে মাটির গুণাগুণ নষ্ট এবং ফসলেরও ক্ষতি হবে।
জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (চট্টগ্রাম মহানগর) মো. আজাদুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থল ঘুরে নদীদূষণের প্রমাণ পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ থেকে সাত হাজার লিটার তেল নদীতে ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করছি।’
দুর্ঘটনার পর গত সোমবার বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া পারভীন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এমটি আরজুর মালিকপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। তিনি বলেন, নদীদূষণের অপরাধে বন্দর কর্তৃপক্ষের অধ্যাদেশ অনুসারে ট্যাংকারটির মালিকপক্ষকে জরিমানা করা হয়।
দুর্ঘটনার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্টগার্ড জানায়, দুর্ঘটনায় ডিজেলবাহী এমটি আরজুর চার নম্বর ট্যাংকের ডান পাশে গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে কর্ণফুলী নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর কোস্টগার্ডের একটি দল দ্রুত ট্যাংকার দুটি নদীতীরে নিয়ে আসে। এরপর দুর্ঘটনাকবলিত ট্যাংকার থেকে জ্বালানি তেল অন্য আরেকটি ট্যাংকারে স্থানান্তর করা হয়।
কোস্টগার্ড পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তা লে. কমান্ডার ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার পর যাতে জ্বালানি তেল নদীতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য দ্রুত আরেকটি ট্যাংকারে ৬০ হাজার লিটার ডিজেল স্থানান্তর করা হয়।