
খুলনা মহানগরে অবস্থিত দুটি বেসরকারিসহ পাঁচটি করোনা হাসপাতালের মধ্যে তিনটিতে আট করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরা মারা যান।
অন্য দুটি হাসপাতালে ওই সময়ের মধ্যে কোনো করোনা রোগী মারা যাননি। এটা নিয়ে টানা আট দিন খুলনায় করোনা রোগী মৃত্যুর সংখ্যা দুই অঙ্কের নিচে থাকল। আগের দিন একই সময়ে ওই হাসপাতালগুলোতে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল।
হাসপাতালগুলোতে যে আট করোনা রোগী মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে দুজন নারী। এর মধ্যে ৩১ বছর বয়সের এক নারী রয়েছেন। এ ছাড়া মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জনের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। বাকিদের বয়স ৬০ বছরের বেশি।
হাসপাতালগুলোর দৈনিকভিত্তিক প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থিত ২০০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৫ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আর শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে মারা গেছেন দুজন। এ ছাড়া বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট খুলনা সদর (জেনারেল) হাসপাতাল ও বেসরকারি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও কেউ মারা যাননি।
মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে রোগী শনাক্ত কমে গেছে বলে মনে করছেন খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ। তিনি বলেন, গত মাসে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছে, সেটা থেকে বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আবার আগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, খুলনার দুটি হাসপাতালে যে আট করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে চারজন খুলনা জেলার। বাকিরা অন্য জেলা থেকে খুলনায় চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন।
রোগী শনাক্ত কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতেও কমেছে রোগীর চাপ। করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত প্রায় সব কটি হাসপাতালে এখন কয়েকটি করে শয্যা খালি আছে। তবে সাধারণ শয্যা খালি থাকলেও চাহিদা রয়েছে আইসিইউ শয্যার। খুলনার দুটি সরকারি হাসপাতালে যে ৩০টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে, তা কখনোই খালি হচ্ছে না। কেউ মারা গেলে অন্য রোগীদের সেখানে ভর্তি করা হচ্ছে।
রোগী ভর্তির তথ্য থেকে দেখা গেছে, আজ সকাল পর্যন্ত ২০০ শয্যার ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছেন ১২১ জন। এর মধ্যে করোনা রোগী আছেন ৪৬ জন ও করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ৪২ জন। এ ছাড়া ওই হাসপাতালে থাকা ২০টি এইচডিইউতে রোগী ভর্তি আছেন ১৩ জন। ২০টি আইসিইউ শয্যার সব কটিই পরিপূর্ণ।
এদিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট খুলনা সদর (জেলারেল) হাসপাতালে (৮০ শয্যার করোনা ইউনিট) বর্তমানে করোনা রোগী ভর্তি আছেন ২৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ওই হাসপাতালে সাতজন নতুন করোনা রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর ছাড়পত্র নিয়েছেন আটজন।
খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ১০টি আইসিইউসহ ৪৫টি শয্যার করোনা ইউনিটে বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৩৬ জন। তবে কোনো আইসিইউ শয্যা খালি নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৫ জন করোনা রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি গেছেন ছয়জন।
বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় প্রস্তুত করা হয়েছিল ১৫০টি শয্যা। বর্তমানে সেখানে রোগী ভর্তি আছেন ৫১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪ জন ও ছাড়পত্র নিয়েছেন ৬ জন।
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে ৯০টি শয্যা। বর্তমানে সেখানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৬৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১১ জন ভর্তি ও ৭ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন।