
পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে খুলনা নগরের মিস্ত্রিপাড়া বাজারের পাশে একটি পুকুর ভরাট করা হচ্ছে৷ ভরাটের পর সেখানে প্লট করা হবে৷ এটি ভরাট হয়ে গেলে পানির সংকটে ওই এলাকার দুই হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে৷ পরিবেশ অধিদপ্তর নোটিশ দেওয়ার পরও পুকুর ভরাট অব্যাহত রেখেছেন মালিকের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি৷
এলাকাবাসীর কয়েকজন জানান, মিিস্ত্রপাড়া এলাকায় ৫০ হাজার মানুষ বাস করে। এ এলাকার প্রায় এক একর জমিতে ৩০ বছর আগে একটি পুকুর করা হয়৷ পুকুরের মালিক মোসলেলুর রহমান৷ তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে আছেন৷ তাঁর কাছ থেকে আমমোক্তারনামা নিয়ে বালু দিয়ে পুকুর ভরাট করছেন নগরের ফারাজিপাড়া লেনের বাসিন্দা মো. তারেক ওরফে ঝন্টু৷
এলাকাবাসী আরও জানান, নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মিিস্ত্রপাড়া এলাকার অধিকাংশ স্থানে ওয়াসার পানি পাওয়া যায় না৷ তা ছাড়া এ এলাকার ২০ শতাংশ গভীর নলকূপেও পানি উঠে না। এ কারণে এলাকার প্রায় দুই হাজার মানুষ পুকুরের পানি দিয়ে গোসল, রান্নাবান্না ও গৃহস্থািলর কাজ করেন। পুকুরটি ভরাট করা হয়ে গেলে তাঁদের সমস্যা হবে।
গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পুকুরের পূর্ব পাশের কিছু অংশে বালু ফেলা হয়েছে। পুকুরের আশপাশের গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার রাতেও ট্রাকে করে এনে এ বালু পুকুরে ফেলা হয়েছে।
মিস্ত্রিপাড়া এলাকার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ড ছাড়াও আরও দুই-তিন ওয়ার্ডের মধ্যে এমন বড় পুকুর নেই। এটি ভরাট করলি মানুষের ভীষণ পানির কষ্ট হবে। মানুষ গোসল করতি পারবে না।’ অপর বাসিন্দা মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘২৩, ২৭ ও ২৮ ওয়ার্ডের পাঁচ-ছয় হাজার মানুষ প্রতিদিন ওই পুকুরে গোসল করেন, ধোয়ামোছা করেন ও তাঁদের সন্তানদের সাঁতার শেখান।’
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউিন্সলর কে এম হুমায়ন কবির জানান, পুকুরটি ভরাটের জন্য কেসিসি থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংশোধিত পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১০-এর ৫ ধারা অনুযায়ী জলাশয় ব্যক্তিগত হলেও ভরাট করা যাবে না। কিন্তু তারেক ভুয়া কাগজ দেখিয়ে ভরাট করছেন৷ মালিক নাকি তাঁকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। সেটি করতে হলে দুই পক্ষের উপস্থিত থাকা লাগে। কিন্তু গত ৩০ বছরে পুকুরের মালিক দেশেই আসেননি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক তরুণকান্তি শিকদার বলেন, ‘আমরা একটি নোটিশ করেছি। যাতে এটি ভরাট না হয়। তার পরও পুলিশ পাঠাচ্ছি৷ দেখি কীভাবে এটা রোধ করা যায়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে মো. তারেক বলেন, এটা কখনো পুকুর ছিল না। ঘরবাড়ি ও রাস্তা করার সময় এখান থেকে মাটি কাটা হয়েছিল। মালিকের কোনো বাড়ি নেই৷ তাই এটি ভরাট করে বাড়ি করা হবে। এটি ভরাট করার জন্য কেসিসির অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি সাংবাদিক, তা কী করে বুঝব। আপনার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হলে সব কাগজপত্র নিয়ে আপনার সঙ্গে দেখা করব।’ কেসিসি মেয়র মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এভাবে জলাশয় ভরাট করা যাবে না। আমাদের কাছে তো ফোর্স নেই। এ কারণে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। তার পরও আমি পুকুর ভরাট ঠেকানোর চেষ্টা করছি৷’