ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ জগতপুর তালতলী গ্রাম থেকে গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে। ওই গৃহবধূর স্বামী পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, দক্ষিণ জগতপুর তালতলী গ্রামের দরবেশ আলী হাফেজবাড়ির হেদায়েতুল ইসলাম ওরফে আপেল (৩৫) ঢাকার আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। প্রায় আট বছর আগে তিনি প্রেম করে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের রোকসানা বেগম রেশমীকে (২৫) বিয়ে করেন। তাঁদের ছয় বছর ও তিন বছর বয়সের দুটি মেয়ে রয়েছে। তাঁরা আশুলিয়াতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হেদায়েতুল গত মঙ্গলবার স্ত্রীর লাশ নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন ও তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে প্রচার করেন।
হেদায়েতুল ইসলামের শ্বশুর উকিল আলী বলেন, তাঁর মেয়ে কয়েক দিন আগে তাঁদের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ৩ ফেব্রুয়ারি সে স্বামীর বাসায় ফিরে যায়। হেদায়েতুল ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে জানান, রোকসানা কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছে। তাকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। কিন্তু তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন, হেদায়েতুল তাঁর মেয়েকে মারধর ও কুপিয়ে হত্যা করেছে।
দাগনভূঞা থানার পুলিশ ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ দেখে হেদায়েতুল পালিয়ে যান।
দাগনভূঞা থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন জানান, ওই গৃহবধূর মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, ওই গৃহবধূকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।