একজনের জবানবন্দি

চট্টগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে আরও দুজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে আরও দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ। তাঁরা হলেন তৌহিদুল আলম ওরফে আবদুল্লাহ ওরফে আবদুর রহমান ও আরিফুল মোস্তাফা। এঁদের মধ্যে তৌহিদুল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গতকাল বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ফটিকছড়ির সুন্দরপুর থেকে তৌহিদুলকে এবং সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড থেকে আরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত রোববার গ্রেপ্তার করা চারজনের সঙ্গে তাঁরাও ছিলেন। কিন্তু সেদিন তাঁরা পালিয়ে যান। তাঁরা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। সীতাকুণ্ডের একটি কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।
এর আগে গত রোববার রাতে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকা থেকে মুসাব ইবনে ওমায়েদ (২৫), মোহাম্মদ শিপন ওরফে ফয়সল (২৫), খোরশেদ আলম (৩১) ও রাসেল মোহাম্মদ ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, চারজনের কাছ থেকে চারটি চাপাতি, চারটি কিরিচ, ছয়টি মুঠোফোন, একটি ল্যাপটপ ও একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় অস্ত্র ও সন্ত্রাস দমন আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকেও একই মামলার আসামি করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া চার যুবককে গত মঙ্গলবার থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে কাজ করার কথা স্বীকার করে গ্রেপ্তার তৌহিদুল আলম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাচ্ছে না। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা কোর্ট পরিদর্শক এ এইচ এম মশিউর রহমান জানান, জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামি তৌহিদুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।