নরসিংদীর রায়পুরার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেনের বিচারের দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদীরা। নির্বাচনী সহিংসতার দুটি মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরসুবুদ্ধি ইউপির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় গত ১৯ মার্চ আবদুল্লাহপুর উচ্চবিদ্যালয়ে অরাজকতা চালান আবদুল মোমেন। ওই সময় তাঁর লোকজন ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনকে কুপিয়ে জখম করে। এলোপাতাড়ি হামলায় বিদ্যালয়ের ৮-১০ শিক্ষার্থী আহত হয়। আবদুল মোমেন বিদ্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তিনটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এতে ভয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক তানিয়া বেগম, শিক্ষার্থী সুবর্ণা আক্তার ও সুমাইয়া বেগম অচেতন হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন খন্দকার বাদী হয়ে আবদুল মোমেনকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ওই দিনই মোমেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৯ দিন পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে তিনি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। গত ৪ এপ্রিল জেলা প্রশাসন তাঁর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে।
আবদুল মোমেন নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজনকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ মে নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাসির উদ্দিনের সমর্থক বাটখলা এলাকার মতিউর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এ ঘটনায় মতিউরের আত্মীয় শাসমু আলম বাদী হয়ে আবদুল মোমেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। একই দিন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ছেলে মো. সোহাগ মিয়াকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় মোমেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা হয়।
বিদ্যালয়ে অরাজকতা চালানোর মামলার বাদী কামাল হোসেন বলেন, ‘তিনি সভাপতি থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সঠিকভাবে চালানো যাচ্ছিল না। কারণ, তিনি বিদ্যালয়কে রাজনীতির অংশ মনে করতেন। আমরা তাঁর কথা শুনতাম না বলে সব সময় আমাদের মানসিক অত্যাচার করতেন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আবদুল মোমেন এতটাই ভয়ংকর প্রকৃতির লোক যে কারাগারে বসে বিভিন্ন লোকজন দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন যে একবার জেল থেকে বের হতে পারলে নাকি আমাদের জানে মেরে ফেলবেন। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলার স্বার্থে তিনি যেন কোনোভাবেই ছাড়া পেতে না পারেন, এটি এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি। আর কোমলমতি শিশুদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাগুলোর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবদুল মোমেনকে জেলহাজতে আটক রাখতে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের কাছে আবেদন করা হয়েছে।