গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিৎসক মাত্র একজন

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছাড়া কোনো চিকিৎসক নেই। এতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসা না পেয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি থেকে ফিরে যাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সূত্র জানায়, গোসাইরহাটের নয়টি ইউনিয়নে প্রায় চার লাখ মানুষের বাস। তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে ১০ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। বর্তমানে এখানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান মিঞা ছাড়া আর কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই।
হাফিজুর রহমান মিঞা বলেন, এভাবে একা একটি হাসপাতাল কেউ চালাতে পারে না। রোগীর চাপ বেশি থাকলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসকদের এনে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।
সূত্র জানায়, গত ১৪ মে গাইনি বিশেষজ্ঞ ফামিদা শারমিন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। যোগদানপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আর আসেননি। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রুম্মানা সুলতানা প্রেষণে জাতীয় সংসদে কর্মরত রয়েছেন, ডেন্টাল সার্জন সৈয়দ ইসতিয়াকুর রহিম প্রেষণে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কর্মরত আছেন।
গাইনি বিশেষজ্ঞ ফামিদা শারমিন মুঠোফোনে বলেন, ‘এখনো গোসাইরহাটে যাওয়া হয়নি। সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে আমি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছি। প্রেষণে সদর হাসপাতালে কাজ করার প্রক্রিয়া চলছে।’
গত মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে রোগীদের ভিড়। চিকিৎসক না পেয়ে কেউ কেউ ফিরে যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষের সামনে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগী অপেক্ষা করছে। পাশের দুটি কক্ষে নাগেরপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও সমন্তসার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম সেবা দিচ্ছেন। ওই কক্ষ দুটিতেও রোগীদের ভিড়।
চিকিৎসা নিতে আসা ভিমখিল গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও জোহরা বেগম বলেন, তাঁরা সকাল ১০টায় হাসপাতালে এসেছেন। বেলা একটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও চিকিৎসক দেখাতে পারেননি। হাসপাতালে এলেই শোনেন চিকিৎসক নেই।
মহেশ্বরপট্টি গ্রামের বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে এসে ডাক্তার না পেয়ে দুই দিন ফিরে গেছি। আজ আবার আসছি। আমরা গরিব মানুষ। বিনা পয়সায় ডাক্তার দেখানোর জন্য সরকারি হাসপাতালে আসি। এসে ডাক্তার না পেলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এটা কেউ বুঝতে চায় না।’
সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, শরীয়তপুরের প্রতিটি হাসপাতালে চিকিৎসক-সংকট। জোড়াতালি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আবার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনেককে প্রেষণে ছাড়তে হচ্ছে।