
জয়পুরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কম। এ নির্বাচন নিয়ে ভোটারের আগ্রহও কম। প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেছে। কিন্তু ছাপাখানায় প্রার্থীদের প্রচারপত্র ও পোস্টার ছাপানোর তোড়জোড় নেই।
জয়পুরহাট শহরের একাধিক ছাপাখানা সূত্রে জানা গেছে, অন্য নির্বাচনের সময় সাধারণত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরই ছাপাখানায় ভিড় জমত। প্রতীক-সংবলিত প্রচারপত্র, ছবিসহ পোস্টার ছাপানোর জন্য প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। কিন্তু এবার জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কমসংখ্যক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন। তাই ছাপাখানায় ভিড় নেই।
গত বুধবার জয়পুরহাট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে প্রথম দিনে প্রার্থীরা নিজেদের ছবি দিয়ে ছোট আকারের প্রচারপত্র ছাপার ফরমাশ দিয়েছেন। জেলায় ভাইস চেয়ারম্যান ২২ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কালাই উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন রত্না রশীদ। তিনি বলেন, তিনি প্রজাপতি প্রতীক পেয়েছেন। প্রথম দিনে তিনি সামান্য কিছু প্রচারপত্র ছাপাবেন। প্রচারপত্রগুলো নিয়ে ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইবেন। আক্কেলপুর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রওশন আরা কলসি প্রতীক পেয়েছেন। তিনিও প্রচারপত্র ছাপতে দিয়েছেন।
ক্ষেতলাল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী তুহিন ইসলাম, কালাইয়ের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রত্না রশীদ ও আক্কেলপুর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রওশন আরা বলেন, তাঁরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চান। ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। তাঁরা আশা করছেন, এবার ভোট সুষ্ঠু হবে।
জয়পুরহাট শহরের পৌর বিপণিবিতানের যুগবাণী মুদ্রায়ণের মালিক মো. সোহেল হক, তসলিম প্রিন্টিং প্রেসের মালিক এ টি এম শাহনেওয়াজ কবীর এবং অভ্র ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রেসের মালিক এ টি এম আলমগীর কবীর প্রায় একই রকম কথা বলেন। তাঁরা বলেন, এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচারপত্র ও পোস্টার ছাপার কাজে কোনো চাপ নেই। যে দু-চারজন প্রার্থী আসছেন, তাঁরা সামান্যসংখ্যক প্রচারপত্র (হ্যান্ডবিল) তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন। কাজের কোনো চাপ নেই। অথচ জেলায় আগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় প্রার্থীদের পোস্টার ও প্রচারপত্র ছাপানোর কাজে তাঁরা ব্যস্ত সময় পার করতেন। এবার প্রার্থী কম। কাজও খুব কম। প্রার্থীরা প্রচারপত্র ও পোস্টার খুব বেশি ছাপাচ্ছেন না।
কালাই উপজেলার তেলিহার গ্রামের কৃষক আবদুস সাত্তার বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন কোনো উচ্ছ্বাস-আনন্দ কিছুই নেই। প্রার্থীদেরও তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। একই উপজেলার ভাটরা গ্রামের আনিছুর রহমান বলেন, এবার ভোট নিয়ে মানুষের একেবারে আগ্রহ নেই। তাঁরা এখন বোরো ধান আবাদ নিয়ে ব্যস্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইনজীবী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। ওই ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক প্রশ্ন। তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট নিয়েও তাঁদের তেমন আগ্রহ নেই।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের মিত্র দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের এস এম সোলায়মান আলী এবং পাঁচবিবি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনিরুল শহীদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কালাইয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিনফিজুর রহমান এবং জাসদের তারেকুল ইসলাম প্রার্থী। ক্ষেতলালে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মোস্তাকিম মণ্ডল এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী তাইফুল ইসলাম তালুকদার। আক্কেলপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোকছেদ আলী এবং বিদ্রোহী আবদুস সালাম আকন্দ। জাসদের (ইনু) আবুল খায়ের মো. সাখাওয়াত হোসেন। জয়পুরহাটে বিএনপিসহ আর কোনো দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি।