জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চারটি মৌজার প্রায় দুই হাজার বিঘা জমি দুই বছর ধরে অনাবাদি রয়েছে। ফলে চারটি মৌসুমের ফসল না পেয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছেন এলাকার কয়েক শ কৃষক।
উপজেলার চারটি মৌজা হলো রসুলপুর, তাহেরপুর, পলশা ও শ্রীরামপুর। অনাবাদি জমিগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহায়তায় স্থানীয় সেচ সমিতি পরিচালিত মোহাম্মদখানি সেচ প্রকল্পভুক্ত।
সেচ প্রকল্পভুক্ত কৃষকেরা অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার নয়াগোলা ও আতাহার এলাকায় অবস্থিত ৫০টির মতো অটো রাইস মিলের ছাই দিয়ে পানিনিষ্কাশনের পথগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুই বছর ধরে ওই চারটি মৌজার প্রায় দুই হাজার বিঘা জমিতে বোরো ও আমন ধানের আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। চারটি মৌসুমের কোনো ধান না পেয়ে এলাকার কৃষক পরিবারগুলোর জীবন-জীবিকা চরম সংকটে পড়েছে। জমি থাকার পরেও কৃষকেরা দিনমজুরি করছেন।
শ্রীরামপুর মৌজার কৃষক মফিজুল হক (৫০) বলেন, ‘হামার আট বিঘা জমি থাকার পরও পাইট (দিনমজুরি করে) খাইটা খাছি। হামার দু মেয়ে ও দু ছেলে। সবাই লেখাপড়া করে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ছ্যালা-পিলার পড়া তো বন্ধ হইবেই। প্যাটের ভাতই জুটাইতে পারব না।’
সেচ প্রকল্প কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের বলেন, এ চারটি মৌজার প্রায় ৫০০ কৃষক জমিতে আবাদ করতে না পেরে চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন। স্থানীয় সাংসদ আবদুল ওদুদ সম্প্রতি সরেজমিনে জলাবদ্ধ এলাকা দেখেছেন। ওই সময় উপস্থিত বহু কৃষক তাঁদের দুরবস্থার কথা জানিয়েছেন সাংসদকে। সাংসদ ওই সময় উপস্থিত এলজিইডির সদর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী অহেদুজ্জামানকে সংকট নিরসনের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী অহেদুজ্জামান বলেন, অটো রাইস মিলের কারণেই এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রকল্প এলাকায় নালা ও জলকপাট নির্মাণ করে জলাবদ্ধ এলাকার পানি মহানন্দা নদীতে নিয়ে যেতে হবে। এ ব্যাপারে সাংসদের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। তবে এ প্রকল্পের ব্যয় স্থানীয় তহবিল থেকে বহন করা সম্ভব নয়। এলজিইডির সদর দপ্তরের সহায়তা ছাড়া এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না।