জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের বেতন-ভাতা শতকরা ৬ দশমিক ৭৫ ভাগ হারে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাতা অতিরিক্ত আরও ১০ ভাগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং সাধারণ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে আবদুল মোমেন ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির কারণে জাতিসংঘের কর্মীদের বেতন-ভাতা শতকরা ৫৭ ভাগ বাড়লেও ১৯৯২ সালের পর শান্তিরক্ষীদের বেতন-ভাতা বাড়েনি। কিন্তু বাংলাদেশের বিশেষ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় অবশেষে শান্তিরক্ষীদের বেতন-ভাতা বাড়ল।
২০১০ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। এ প্রস্তাবে সাড়া দেয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী শীর্ষস্থানীয় দেশ পাকিস্তান, ভারত, নাইজেরিয়া ও উরুগুয়ে।
২০১১ সালে পাঁচটি দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিরা জি-৭৭-এ প্রস্তাবটি তোলেন। প্রস্তাবটি সমর্থনও পায়। একই বছরের ৩০ জুন শান্তিরক্ষীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব গ্রহণ না করায় বাজেট পাস বন্ধ করে দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে অস্থায়ী ভিত্তিতে (অ্যাডহক) শান্তিরক্ষীদের জন্য আট কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ বাড়িয়ে দেয়া হয়।
২০১২ সালে অস্থায়ী ভিত্তিতে ছয় কোটি ডলার বরাদ্দ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় স্থায়ীভাবে বেতন বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়। তিনি উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেন। ২০ সদস্যের ওই কমিটিতে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নাইজেরিয়া ও উরুগুয়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন জাতিসংঘে সর্বোচ্চ অর্থ সহায়তাকারী দেশ জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া পাঁচটি দেশের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ও জাতিসংঘ মহাসচিব নিযুক্ত পাঁচজন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি ওই কমিটিতে ছিলেন।
কমিটি গত এক বছর বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা, শান্তিরক্ষীদের জীবনধারণের ব্যয় বৃদ্ধি ও ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করে। গতকাল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শান্তিরক্ষা কর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবটি গ্রহণ করে।
শান্তিরক্ষীদের বেতন বৃদ্ধির অন্যতম উদ্যোক্তা জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুুল মোমেন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘শান্তিরক্ষীদের জন্য এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের খবর। বাংলাদেশ এখন শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী শীর্ষ দেশ। বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে আমাদের সৈনিকেরা আরও একটু ভালো জীবন যাপন করতে পারবেন। একই সঙ্গে আমাদের দেশের আয় বেড়ে যাবে। জাতিসংঘের জনমুখী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই।’