ডা. জহুরুল কামাল কলেজ

জাতীয়করণে বাদ পড়ায় মহাসড়ক অবরোধ

পাবনার সুজানগর উপজেলার জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের তালিকা থেকে বাদ পাড়ায় স্থানীয় এলাকাবাসী পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক ও কলেজের শিক্ষকদের অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা l প্রথম আলো
পাবনার সুজানগর উপজেলার জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের তালিকা থেকে বাদ পাড়ায় স্থানীয় এলাকাবাসী পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক ও কলেজের শিক্ষকদের অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা l প্রথম আলো

পাবনার সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের ডা. জহুরুল কামাল কলেজ জাতীয়করণ না করায় এলাকাবাসী গতকাল বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন। একপর্যায়ে তাঁরা পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, জাতীয়করণের দ্বিতীয় ধাপে পাবনার পাঁচটি কলেজ জাতীয়করণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সুজানগরের একটি কলেজও রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও সব শর্তপূরণ সত্ত্বেও ডা. জহুরুল কামাল কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়নি। অথচ এটি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও ফলাফল বিবেচনায় ওই কলেজগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল বেলা ১১টার দিকে কলেজের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ঘণ্টা খানেক পরে তাঁরা কলেজের সামনের দুলাই বাজার এলাকায় গিয়ে পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও কোনো এক অজ্ঞাত করণে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়নি। অবিলম্বে কলেজটি জাতীয়করণ করা না হলে তাঁরা বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেবেন।
এদিকে এই অবরোধের কারণে সড়কের দুই দিকে প্রায় ১২ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। খবর পেয়ে বেলা একটার দিকে সুজানগর থানার পুলিশ ও সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করেন।
ইউএনও সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসীর দাবির সঙ্গে একাত্ম আছি। আমরা দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়ে দেব।’
অধ্যক্ষ আবদুল লতিফ বলেন, ডা. জহুরুল কামাল কলেজ ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা (প্রায় সাড়ে তিন হাজার) ও ফলাফলের দিক থেকে কলেজটি উপজেলায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এখানে স্নাতক (সম্মান) ও ডিগ্রি কোর্স—সবই রয়েছে। অথচ জাতীয়করণ করা হয়েছে উপজেলার নিজাম উদ্দিন আজগর আলী ডিগ্রি কলেজকে। ওই কলেজে শিক্ষার্থী মাত্র ৩৫০ জন। আর কলেজটিতে এত দিন কেবল উচ্চমাধ্যমিক পড়ানো হতো। সবে তারা ডিগ্রি কোর্স খুলেছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয়করণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম তালিকায়ও তাঁদের কলেজের নাম ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে কলেজটির পরিদর্শনকাজও শেষ করেছে। তবুও প্রতিষ্ঠানটিকে কেন জাতীয়করণ করা হলো না, তা বোধগম্য নয়।