তিন আসামির রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে। সুনামগঞ্জের আদালতে উপস্থিত তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু কারাগার থেকে আসামিদের হাজির করার কোনো নামগন্ধ নেই। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তদন্ত কর্মকর্তা যোগাযোগ করলেন সুনামগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। যে তথ্য পেলেন তাতে তো তিনি অবাক! জানলেন, আদালতের কোনো নির্দেশ ছাড়াই ওই তিন আসামিকে ছেড়ে দিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।
ঘটনা জানাজানির পর হন্তদন্ত হয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আজ বুধবার ওই তিনজনের দুজনকে আবার গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি একজন পলাতক।
জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোর কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, তিন আসামিকে হাজির করতে আদালতের আদেশের কপিকে জামিনের কপি মনে করে কারা কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার তাঁদের ছেড়ে দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, ওই তিন আসামি হলেন, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের পাপলু (১৯) এবং পার্শ্ববর্তী পাটিবাক গ্রামের মো. রুমেন (২০) ও মো. তারেক (১৮)। তাঁদের বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। গত রোববার ভোরে তাদের আটক করা হয়। ওই দিনই সুনামগঞ্জের ছাতক থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করে পুলিশ। বিকেলে সুনামগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তাঁদের হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত আজ বুধবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড শুনানির সময় আসামিদের আদালতে হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছাতক থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন আজ আদালতে উপস্থিত হন। কিন্তু কারাগার থেকে আসামিদের আর আদালতে আনা হয়নি। একপর্যায়ে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন আসামিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জেল সুপার আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আদালতের আদেশের কপিটা দেখতে জামিন নামার মতোই ছিল বলে কর্মকর্তারা ভুল করে আসামিদের ছেড়ে দিয়েছেন। এটা আসলে নিতান্তই ভুল। ভুল তো মানুষেরই হয়। আর ভুলের কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে।’
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ আজ বিকেল পাঁচটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরই আসামিদের ধরতে অভিযান চালাই। পাপলু ও রুমেনকে আজই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারেককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।