ঝড়ে পড়েছে আমচত্বরের আম

সুমিষ্ট আমের কারণে অনেকেই রাজশাহীকে আমের রাজধানী বলে থাকেন। শহরে ঢুকতেই যাতে আমের দৃশ্য চোখে পড়ে, এ জন্য নগরের নওদাপাড়া এলাকায় চার রাস্তার মোড়ে ইট-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি তিনটি আমের ভাস্কর্য দিয়ে একটি সুদৃশ্য গোলচত্বর করা হয়।
চত্বরটির নাম দেওয়া হয় আমচত্বর। ৪ এপ্রিলের ঝড়ে সেই আম তিনটি কাত হয়ে পড়ে রয়েছে, নষ্ট হয়ে গেছে এর রং। এখন পর্যন্ত এর পরিচর্যায় এগিয়ে আসেনি কেউ।
নগরের লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন আমচত্বর হয়েই রাজশাহী শহরে প্রবেশ করেন। গতকাল সোমবার সকালে তিনি আম তিনটিকে কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখে বলেন, ‘আম হচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্য। শহরের প্রবেশপথে এসে আমের এই মডেল চোখে পড়লেই মনে হয় রাজশাহীতে এলাম। আম তিনটিকে এমন হতশ্রী অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে মনে হচ্ছে, এটি শহরের অপমান।’
হেরিটেজ-রাজশাহীর প্রতিষ্ঠাতা মাহাবুব সিদ্দিকী আম নিয়ে গবেষণা করেন। এ নিয়ে তাঁর একটি গবেষণাগ্রন্থও রয়েছে। তিনি বলেন, এটি রাজশাহীর পরিচিত স্মারক। আজ দেশে-বিদেশে এই চত্বর রাজশাহীর পরিচিতি বহন করছে। জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই চত্বরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, সড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের। ২০০৪ সালে গ্রামীণফোনের উদ্যোগে সওজ রাজশাহী শহর বাইপাস সড়কের নওদাপাড়া গোলচত্বরে তিনটি আমের মডেল তৈরি করে দেয়। এর পর থেকে চত্বরটি আমচত্বর নামে পরিচিত হয়। তিনি বলেন, গ্রামীণফোন চত্বরটি নির্মাণ করে দিলেও এটি এখন তদারকির দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগেরই।
জানতে চাইলে সওজ রাজশাহীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, এটা অবশ্যই সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। এর আগে চত্বরের চারদিক ঘিরে দেওয়ার কাজটি সিটি করপোরেশন করে দেয়। চত্বরের ভেতরে ফুলের গাছ লাগানোর কাজ এবং আমের রংও তারাই করেছে। এখন আম পড়ে গেলে আবার সওজ ঠিক করতে যাবে কেন? তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটা অবশ্যই সিটি করপোরেশনের কাজ।