
পাবনা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তানিজা হায়দার (২১)। ফাল্গুনের প্রথম দিনে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিলেন তিনি। মোটরসাইকেলে করে তাঁরা যাচ্ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান তানিজা।
বুধবার বিকেলে পাবনার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন তানিজার বন্ধু ও একই মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র ইমরান চৌধুরী। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তানিজার সহপাঠীরা জানান, তানিজার বাড়ি রাজশাহী লক্ষ্মীপুর কাঁচাবাজার এলাকায়। তিনি পাবনা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করতেন। পয়লা ফাল্গুন উপলক্ষে বিকেলে বন্ধু ইমরান চৌধুরীর সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পার হয়ে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কে উঠতেই পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত আটোরিকশা তাঁদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তানিজা ছিটকে সড়কে পড়েন। তৎক্ষণাৎ দ্রুতগামী একটি ট্রাক তাঁকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তানিজার মৃত্যু হয়। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ইমরানকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
সন্ধ্যায় ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তানিজার বন্ধু ও সহপাঠীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন। কেউ কাঁদছেন, কেউ বা আবার স্মৃতি রোমন্থন করে হা-হুতাশ করছেন। পাশেই একটি কক্ষে আহাজারি করছিলেন চিকিৎসাধীন ইমরান চৌধুরী। অন্য একটি কক্ষে পড়ে আছে তানিজার নিথর দেহ।
এ সময় তানিজার বন্ধুরা জানান, সড়কে বেপরোয়া ট্রাকের জন্যই তাঁদের বন্ধুর জীবন গেছে। এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তাঁরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি আটক করেছি। ট্রাকের ঘাতক চালক ও চালকের সহকারী পালিয়ে গেছেন। তবে তাঁদের ধরার চেষ্টা চলছে।’
এ দিকে খবর পেয়ে তানিজার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহী থেকে পাবনার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছালে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।