
ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক নিয়ে ভাবনা আছে বাড়ির তরুণ সদস্য টিরও। এ চিন্তা মাথায় রেখে সময় ও ঋতু বিবেচনায় রাজধানীর বিপণিকেন্দ্র ও ফ্যাশন হাউসগুলো ঈদ ফ্যাশনের অনুষঙ্গ তৈরির কথা চিন্তা করে। ঈদে তরুণদের পছন্দ, চাহিদার কথা ভেবে ঢাকার বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্রগুলো বাজারে হাল আমলের পোশাক এনেছে।
আজ ১৪ রমজানে ঢাকার বিভিন্ন শপিং মলগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে ছেলেদের পোশাকের দোকানগুলোতে কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ। ছেলেদের পোশাকের মধ্যে লম্বা পাঞ্জাবি, টিউনফিট পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল শার্ট, হাফ হাতা শার্ট, টি-শার্ট, ফরমাল প্যান্ট, জিনস, সুতির প্যান্ট ও গ্যাবার্ডিনের প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বেশি কিনছেন পাঞ্জাবি, শার্ট ও প্যান্ট। প্যান্টের মধ্যে জিনসের প্যান্টের বিক্রিই বেশি।
ট্রেন্ড বা ব্র্যান্ড যা–ই হোক না কেন, পছন্দের প্রতি গুরুত্ব দিয়েই পোশাক কিনছেন তরুণেরা। বসুন্ধরার ক্রেতা হাসিব বলেন, ‘ব্র্যান্ডসহ সব ধরনের পোশাকই কিনি। তবে নির্দিষ্ট একটা বাজেট রেখে সে অনুযায়ী কিনতে হয়। যারা সামর্থ্যবান, তারাই দেখা যায় ব্র্যান্ডের কাপড় কেনে।’
স্বামী ও ছেলের জন্য কেনাকাটা করতে আসা রাশিদা আফরোজ বলেন, ‘শার্ট-প্যান্ট পছন্দ হলেই কিনব। তবে সেটা যে ব্র্যান্ডেরই হতে হবে তা নয়। ব্র্যান্ডের বাইরেও যেটার কাপড় আরামদায়ক মনে হবে, রং ভালো লাগবে, তা–ই কিনব।’
ছেলেদের পোশাকের মধ্যে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকার পাঞ্জাবি, ৮০০ টাকা থেকে ২০০০ হাজার টাকা দামের প্যান্ট ও ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যের শার্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
এবারের ঈদ বর্ষাকালে। তবে এ কারণে পোশাকে কেবল গাঢ় রং নয়, হালকা রঙেরও ব্যবহার লক্ষ করা গেছে। ঈদের নামাজের কথা ভেবে পাঞ্জাবি কেনেন বেশির ভাগ তরুণ। এবার বৃষ্টি ও গরম—এ দুই অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পাঞ্জাবি ও শার্টের কাপড়ে নতুনত্ব এসেছে। ঢাকার নিউমার্কেট, এলিফেন্ট রোড, আজিজ সুপার মার্কেট ও বসুন্ধরা সিটিতে বিভিন্ন রং ও কাজের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানগুলোতেও আছে বিভিন্ন মাপের ও ডিজাইনের পাঞ্জাবি। তরুণদের কাছে প্রিন্টের ও একরঙা—দুটির প্রায় সমান চাহিদা আছে।
ঢাকার অধিবাসীরা বেশির ভাগই পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি যাবেন। যাঁরা ঘরে কাজ করেন, তাঁদের একটা বড় অংশ এ সময়টাতে কেনাকাটা করছেন। দুপুরের দিকে কম ভিড়ে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে ফেলতে চান অনেকেই।
তরুণেরা পোশাক কেনার ক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, ব্র্যান্ড নয়। শিক্ষার্থী সাজ্জাদ রানা প্যান্ট কিনতে এসেছেন বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে। বললেন, ‘পছন্দের প্যান্ট খুঁজছি। ব্র্যান্ড বা ব্র্যান্ড ছাড়া সব ধরনের শোরুমে দেখেছি। পছন্দ হলে যেকোনো শোরুম থেকে কিনব।’
ছাত্রদের মধ্যে যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হওয়ায় আগেই কেনাকাটা করে বাড়ি যাবেন, তাঁরাও এ সময় কিনছেন। তবে আগে কিনে ফেলার কারণে ঈদ উপলক্ষে নতুন অনেক ডিজাইন থেকে তাঁদের বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইকবালের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি হয়ে গেছে। কিনতে এসেছেন বাবার ও নিজের জন্য। তাঁর দাবি, আগেভাগেই কিনতে আসার কারণে নতুন ডিজাইন সেভাবে দেখছেন। তাঁর মতে, আরও কয়েক দিন পরে নতুন নতুন ডিজাইনগুলো আসবে।
এলিফ্যান্ট রোডে পোশাকের দোকান মেনজ ক্লাবের ম্যানেজার মো. নুরুদ্দিন বলেন, ‘দোকানে ডিজাইন করা শার্ট, প্রিন্টের শার্ট বেশি কিনছেন ক্রেতারা। এবার কুল ওয়াশ, অ্যাসিড ওয়াশ করা টি-শার্টগুলো আমাদের দোকানে নতুন এসেছে। তাদের এখানে টি-শার্ট ৯০০ থেকে ১৭৫০ টাকায়, কুল ওয়াশ করা টি-শার্টগুলো ১৭০০ থেকে ২৪৫০ পর্যন্ত টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এমএন কালেকশনের স্বত্বাধিকারী মমতাজুর রহমান বলেন, এখানে বড়দের পোশাক বিক্রি হয়। দেশি-বিদেশি সব ধরনের পোশাক আছে। চীনা টি-শার্ট বিক্রি করি। তবে বেচাকেনা জমেনি এখনো। ২০ রোজার পর বিক্রি বাড়তে পারে।
গতবারের মতো এবারও ছেলেদের চাপা প্যান্ট চলছে বলে জানালেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে কিশোরেরা এ প্যান্টগুলো কিনছে।