ঠাকুরগাঁও শহরে প্রতি রাতেই বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে শহরের বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহে শহরের আশ্রমপাড়া, মুন্সিপাড়া, কালীবাড়ি, হাজিপাড়ার শতাধিক বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ (সার্ভিস) তার চুরি হয়েছে। তবে এসব চুরির ঘটনা থানায় না জানিয়ে বাড়ির মালিকেরা নিজেরাই আবার সংযোগ লাগিয়ে নিচ্ছেন। এ কারণে পুলিশ চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
ভুক্তভোগীরা জানান, থানায় গেলে পুলিশ সন্দেহভাজন চোরের নাম দিয়ে অভিযোগ করতে বলে। কিন্তু নিশ্চিত না হয়ে তাঁরা কারও নাম দিয়ে বিপদে পড়তে চান না। এ কারণে তাঁরা নামও দেন না। শহরের আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, কয়েক দিন আগে তাঁর বাড়ির সংযোগ তার চুরি হয়েছে। ওই দিন একই এলাকার বাসিন্দা শরিফুল পারভেজ, মাহমুদ হাসান, স্বপন কুমার সাহাসহ আটজনের বাড়ির তার চুরি হয়ে যায়। চোরেরা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে মিটার পর্যন্ত তার কেটে নিয়ে গেছে। এখন প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়ির তার চুরির ঘটনা শোনা যাচ্ছে।
কালীবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা আবু বকর জানান, গত মাসে তাঁর বাড়ির সংযোগ তার দুই দফা চুরি হয়ে যায়। গত সপ্তাহে চোরেরা আবার চুরি করতে এসে আশপাশের বাড়ির তার কেটে নিয়ে যায়। কিন্তু তাঁর বাড়ির তার খুঁটি থেকে কাটার পরও নিয়ে যেতে পারেনি। চোরেরা বৈদ্যুতিক তার থেকে তামার অংশ বের করে শহরের আশপাশের বিভিন্ন ভাঙারি দোকানে বিক্রি করে দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একজন কর্মচারী জানান, গত সপ্তাহে শহরের শতাধিক বাড়ির সংযোগ তার তাঁরা লাগিয়ে দিয়েছেন।
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস জানান, ‘শুনেছি প্রতিদিনই শহরের কোনো না কোনো বাসার বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তোলা হবে।’
পিডিবি ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির সার্ভিস তার চুরি হয়ে যাচ্ছে। তবে তার চুরি যাওয়ায় কেউ আমাদের কাছে সংযোগ লাগানোর জন্য আবেদন করেনি।’
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ খান জানান, বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক তার চুরির বিষয়ে তাঁদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।