ঢাকার যানজট নিরসনে আরও পাঁচ মেট্রোরেল নির্মাণের পরামর্শ

রাজধানীর যানজট নিরসনে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও পাঁচটি মেট্রোরেল, বাসের দুটি বিশেষ লেন, তিনটি রিং রোড ও ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরামর্শ এসেছে পরিবর্তিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায়।
গতকাল বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক কর্মশালায় ঢাকা ও এর আশপাশের সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর আগে সরকার ২০০৪ সালে ঢাকার জন্য ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) গ্রহণ করে। এটিই এখন সংশোধন করে নতুন নতুন প্রকল্প যোগ করা হয়েছে।
জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকার সহায়তায় ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এসটিপি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।
কর্মশালায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এই সংশোধিত পরিকল্পনা ডিসেম্বরের মধ্যে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদনের পর স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন পর্বে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে ২০২০ সালের মধ্যে। আর ২০২৫ সালে মধ্যমেয়াদি এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। সংশোধিত পরিকল্পনায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল করার কথা বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই লাইনটি একদিকে গাজীপুর, অন্যদিকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পৌনে ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। আশুলিয়া থেকে সাভার, গাবতলী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত অন্য মেট্রোরেল প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হচ্ছে প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এর আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে পৌনে ৪০০ কোটি ডলার। কমলাপুরের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জকে সংযুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে আরেকটি মেট্রোরেল নির্মাণের মাধ্যমে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭০ কোটি ডলার।
নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে ভাটারা, নতুনবাজার, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, মিরপুর, গাবতলী বাস টার্মিনাল হয়ে মিরপুর রোড ধরে বসুন্ধরা সিটি পর্যন্ত আরেকটি মেট্রোরেল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে পরিকল্পনায়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। এর আনুমানিক ব্যয় হতে পারে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি।
বর্তমানে উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যে মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের কাজ চলছে সেটিও সম্প্রসারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পরিবর্তিত পরিবহন পরিকল্পনায়। উত্তরা থেকে আশুলিয়া এবং মতিঝিল থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত সম্প্রসারণ করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে প্রায় ৪২ কিলোমিটার। মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর কিছু অংশ মাটির ওপরে এবং কিছু কিছু স্থানে তা মাটির নিচে নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সংশোধিত পরিকল্পনায়।
এ ছাড়া সরকার গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাসের বিশেষ লেন নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে। এটি সম্প্রসারণ করে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল প্রকল্প পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন আরেকটি বাসের বিশেষ লেন করার কথা বলা হয়েছে রাজধানীর পূর্বাংশে।