ঢাকায় মারা যাওয়ার পর বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এনে দাফন করা ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ১৫ জনকে শনাক্ত করে বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হয়েছে গ্রামের ৫০টি বাড়ি।
ওই ব্যক্তি মারা যাওয়ার দুদিন পর সংগ্রহ করা নমুনা গতকাল খুলনা মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়। গতকাল রাত আটটার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাগেরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগকে জানালে স্থানীয় প্রশাসন এসব পদক্ষেপ নেয়।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতি বলেন, ঢাকার উত্তরা এলাকায় বসবাস করা এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। ২৬ এপ্রিল ঢাকার বাসায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন মৃত ব্যক্তির পরিবার তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। ২৮ এপ্রিল সকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে সন্দেহে করে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে খুলনার ল্যাবে পরীক্ষায় পাঠানো হয়। এরপর ওই দিন তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতি জানান, গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে স্বাস্থ্য বিভাগ উপজেলা প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত ব্যক্তির সংর্স্পশে আসা অন্তত ১৫ জনকে শনাক্ত করে তাদের বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই গ্রামের ৫০টি বাড়ি লকডাউন করে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা তাঁর স্ত্রী, অ্যাম্বুলেন্সচালক, তাঁর দাফনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রত্যেকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।