নতুন পানি শোধনাগার প্রকল্পের উদ্বোধন

ঢিল ছুড়ে উন্নয়নের গতি রোধ করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের প্রয়াস নস্যাতের অপচেষ্টায় লিপ্ত। কিন্তু দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে সরকারের উন্নয়নকাজ স্থবির করা যাবে না। খবর বাসসের।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কয়েকটা বোমা মেরে ও ঢিল ছুড়ে উন্নয়নের গতি রোধ করা যাবে না।’
ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ যাত্রীদের স্বস্তির জন্য কেনা সরকারি-বেসরকারি বাস তারা জ্বালিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে তারা এখন পরিকল্পিতভাবে বিদেশি নাগরিক হত্যায় নেমেছে এবং স্থানীয় লোকজনকে খুন করে দেশকে পঙ্গু করার তৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর হোতাদের সম্পর্কে মানুষ এখন সম্পূর্ণ অবগত।
স্থানীয় সরকার ও সমবায়মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ম্যা মিংকিয়াং, প্রকল্পটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চীনের সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান লু ইয়ান ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এ মালেক অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
চীনের আর্থিক সহায়তায় ৩ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার যশলদিয়ায় পদ্মা পানি শোধন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) নির্মিত হবে। এখানে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রকল্প শেষ হবে।
ওয়াসা সূত্র জানায়, ঢাকার মিটফোর্ড, নবাবপুর, লালবাগ, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও সংলগ্ন এলাকায় পানির চাহিদা মেটাতে এই পানি সরবরাহ করা হবে।
নগরের পানি সংকট নিরসনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরও তিনটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছে। নগরের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ধলপুর (সায়েদাবাদ ৩য় পর্যায়), নারায়ণগঞ্জের চর গন্ধপপুর এবং সাভারের তেতুলঝরায় এই প্ল্যান্টগুলো নির্মিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পগুলো শেষ হলে ঢাকা মহানগরের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা ৮০ ভাগ কমবে এবং পরিবেশগত দিক থেকে ঢাকা শহর আরও নিরাপদ ও টেকসই হবে। বর্তমানে ওয়াসার ৭২ শতাংশ সরবরাহ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে।
পরে প্রধানমন্ত্রী সোনারগাঁও হোটেল থেকে মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে মুন্সিগঞ্জে পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন। তিনি ভিডিও কনফারেন্সে স্থানীয় নেতা ও মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।