
‘টেলিফোন অপারেটর’ পদ দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মোহাম্মেদ শাজাহান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁরা দুজনেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। টেলিফোন অপারেটর পদটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য উপযোগী বলে তাঁরা আশায়ও ছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষাও দেন। কিন্তু তাঁদের ডাকা হয়নি মৌখিক পরীক্ষায়। ফলে ভেস্তে গেছে তাঁদের স্বপ্ন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, টেলিফোন অপারেটর ও চালক—এই চার পদের অধীনে নয়জনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে। গত ২৪ মে এসব পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
টেলিফোন অপারেটর পদে আবেদন করা দুই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রার্থী শ্রুতলেখকের সহায়তায় লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। গত ২৫ মে ফল প্রকাশিত হয়। এতে তাঁরা দুজনসহ মোট ৬৬ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৬ জুন হাসপাতালের সভাকক্ষে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রার্থী তাঁদের ব্যবহৃত সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারিক পরীক্ষা দেন। একই দিন ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের রোল নম্বর প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় দুই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ছিল না। ১৭ জুন মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রার্থীই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মেদ শাজাহান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেন। এদিকে আন্দোলনের মুখে সরকার গত বছর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা তুলে দেয়। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে আগের মতোই কোটাপ্রথা চালু রাখা হয়। সে হিসেবে এই দুটি শ্রেণিতে আগের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ কোটা বরাদ্দ আছে।
পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩–এর ৩৯ নম্বর আইনে বলা আছে, ‘যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও, প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী, উপযোগী কোনো কর্মে নিযুক্ত হইতে কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বঞ্চিত বা তাহার প্রতি বৈষম্য করা বা তাহাকে বাধাগ্রস্ত করা যাইবে না।’
তাই মোহাম্মেদ শাজাহান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন হতাশার সুরে বলেন, ‘আমাদের জন্য কোটা আছে আর বিজ্ঞপ্তিতেও কোটার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এত বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান চাইলে অন্তত আমাদের একজনকে সুযোগ দিতে পারত। কারণ টেলিফোন অপারেটর পদটি আমাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী চাকরি। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে পাস করেও যদি এমন চাকরি আমরা না পাই, তাহলে যাব কোথায়?’
তবে ব্যবহারিক পরীক্ষায় যেভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা ছিল সেভাবে দুই প্রতিবন্ধী প্রার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি বলে দাবি করেন হাসপাতালের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ব্যবহারিক পরীক্ষায় আমাদের হাত ছিল না। বাইরের অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। তিনি যা বলেছেন সেভাবেই হয়েছে।’