চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

তারা দুজন সুস্থ হয়ে উঠছে

মানসিক ভারসাম্যহীন এক তরুণী উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে। তাঁর ডান পা হাঁটু থেকে কাটা। সেখানে দগদগে ঘা। বিষয়টি চোখে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। পরে তাঁকে ধরে এনে ভর্তি করা হয় হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগে। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি।
ওই তরুণীর মতো অজ্ঞাতপরিচয় এক বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরকে একই বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাকেও হাসপাতাল এলাকা থেকে ধরে এনে ভর্তি করা হয়। ১৫ বছর বয়সী কিশোরটিও মানসিক সমস্যায় ভুগছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার শহিদুল গণি প্রথম আলোকে বলেন, ‘তরুণীটি হাসপাতালের সামনের রাস্তায় পাগলামি করছিলেন। তাঁর পা থেকে পুঁজ বের হচ্ছিল। আমি তাঁকে ধরে এনে মানসিক বিভাগে ভর্তি করাই। তাঁর পায়ের চিকিৎসার সঙ্গে মানসিক চিকিৎসাও চলছে। একইভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরটিকেও আমাদের কয়েকজন স্টাফ হাসপাতালের সামনে থেকে নিয়ে আসেন।’
ওই দুজনের চিকিৎসার পুরো খরচ হাসপাতাল থেকে বহন করা হচ্ছে।
গত সোমবার মানসিক রোগ বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, মেঝেতে বসে ভাত খাচ্ছে কিশোরটি। বিভাগের সেবিকা দেবী চৌধুরী বলেন, ১৫ অক্টোবর ওই কিশোরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যখন আনা হয় তখন সে হাঁটতে পারত না। তাকে ভাতও খাইয়ে দিতে হতো। এখন সে নিজেই এসব করতে পারে। মানসিকভাবেও সে আগের চেয়ে সুস্থ।
ওই তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গত ১৭ সেপ্টেম্বর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই তরুণীকে পাওয়া যায় হাসপাতালের বাইরে গোলচত্বর এলাকায়। তাঁর ডান পায়ে ব্যান্ডেজ। জানতে চাইলে বলেন, তাঁর নাম নীলা। তিনি বলেন, মাইক্রোবাসের চাপায় তাঁর পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে কোথায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা বলতে পারেননি।
ওই তরুণী বলেন, তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
চিকিৎসক ও সেবিকাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে ওই তরুণী হাসপাতাল থেকে চলে যান। বাইরে গিয়ে ভিক্ষা করেন। বিকেলে আবার ফিরে আসেন।
সেবিকা দেবী চৌধুরী বলেন, ওই তরুণী প্রথম যখন আসেন, তখন অনেক পাগলামি করতেন। চিকিৎসার পর এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। তবে তাঁকে এখানে রাখা মুশকিল। তিনি বাইরে চলে যান।
মানসিক রোগ বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মহীউদ্দিন এ শিকদার বলেন, হাসপাতালে ওই তরুণীর কাটা পায়ের চিকিৎসা করা হয়। ভর্তির সময় তাঁর মানসিক অবস্থাও খুব বিপর্যস্ত ছিল। চিকিৎসার পর এখন অনেক সুস্থ। তিনি বলেন, কিশোরটিও আগের চেয়ে ভালো আছে। দুজনের এখন পুনর্বাসন দরকার।
হাসপাতালের পরিচালক শহিদুল গণি বলেন, ওই তরুণীকে সুস্থ করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।