
আবাসিক এলাকার পাশেই প্রায় এক বিঘা জমি। সিটি করপোরেশনের নথিপত্রে ওই জমি ‘গোপাট’ হিসেবে চিহ্নিত। বাস্তবে সারি সারি বসতঘর নির্মাণ করে জমিটি বেদখলে ছিল। এসব ঘরের কোনোটি পাকা, আবার কোনোটি সীমানাপ্রাচীরবেষ্টিত। সিলেট নগরের পশ্চিম প্রান্তসীমার আখালিয়া এলাকায় এই এক বিঘা জমি চার ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন।
গতকাল রোববার মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে বেদখলে থাকা ওই জমি উদ্ধার করা হয়। এ জমির মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা হবে বলে সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে।
আখালিয়ার সুরমা আবাসিক এলাকা ও ধানোয়াটা নামক এলাকায় ওই জমির অবস্থান। সিটি করপোরেশন জানায়, ৯ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে প্রবহমান একটি ছড়াও পাশ দিয়ে গিয়ে সুরমা নদীতে মিলিত হয়েছে। প্রায় ১৬ ফুট দীর্ঘ গোপাট চিহ্নিত এলাকায় ১১টি স্থাপনা অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি কলোনির মতো ব্যবহৃত হচ্ছিল। বাকি ১০টি স্থাপনার মধ্যে ৩ টিতে সীমানাপ্রাচীরবেষ্টিত পাকা বাড়ি ও ৭টি ছিল বসতঘর আদলের বাড়ি।
সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্র জানায়, গোপাট থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা সরাতে প্রায় ছয় মাস আগে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দখলদারদের বলা হয়েছিল। কিন্তু কেউ নিজ থেকে এসব স্থাপনা না সরানোয় গতকাল বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তা অপসারণ করে জমি উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে মেয়রসহ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলেছুর রহমান, সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা বলেছেন, আখালিয়ায় এক বিঘা জমির গোপাট দখলমুক্ত হওয়ায় পাশ দিয়ে প্রবহমান ছড়ার পানিপ্রবাহ আর বাধাগ্রস্ত হবে না। এতে পুরো আখালিয়া এলাকা আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতামুক্ত থাকবে।
অভিযান চলাকালে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও সেখানে উপস্থিত হয়ে মেয়রকে অভিনন্দন জানান। অভিযান শেষে মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, এ জায়গায় যাঁরা বসবাস করছিলেন, তাঁরা কেউ এ জমি দখল করেননি। প্রভাবশালী দখলদারেরা আড়ালে থেকে তাঁদের দিয়ে দখলের চেষ্টা করে আসছিল। তিনি বলেন, ‘আমি জায়গা উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করার পর বিভিন্ন প্রভাবশালীর কাছ থেকে একের পর এক ফোন ও তদবির আসে। কিন্তু আমি এসব প্রভাবে থেমে যাইনি।