
>
- শাসনগাছা-দৌলতপুর সড়ক
- গত চার দিনের বৃষ্টিতে সড়কটি দিয়ে হাঁটাই দায় হয়ে পড়েছে
- পুরো সড়কে কাদাপানি
- বিছানো ইটগুলো সরে সেটি এখন কাঁচা সড়কে রূপ নিয়েছে
সড়কের অধিকাংশ অংশে পিচ উঠে গেছে। ইট, সুরকির হদিস নেই। কয়েক শ গর্তের মধ্যে ৩০টি যেন ডোবা। সামান্য বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি থইথই
করে। কাদা জমে চষা জমির রূপ নেয় সড়ক। শুকনোকালে ওড়ে বালু। এটি কুমিল্লার শাসনগাছা-দৌলতপুর সড়ক।
দুই কিলোমিটার লম্বা সড়কটি কুমিল্লা শহরতলি লাগোয়া। এটি আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে পড়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, গত চার দিনের বৃষ্টিতে সড়কটি দিয়ে হাঁটাই দায় হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কে কাদাপানি। বিছানো ইটগুলো সরে সেটি এখন কাঁচা সড়কে রূপ নিয়েছে।
সড়কটি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে প্রবেশের একমাত্র পথ। এ সড়ক দিয়েই প্রতিদিন ২২ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী কলেজে আসা-যাওয়া করেন। এ সড়ক দিয়ে টমছম ব্রিজ থেকে দৌলতপুর হয়ে শাসনগাছা বাস টার্মিনালে যাতায়াত করেন যাত্রীরা।
আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এমপি সাহেব এ সড়ক উন্নয়ন করার জন্য সিটি করপোরেশনকে বলেছেন। তিনি নিজে চেষ্টা করে কিছু বরাদ্দ এনেছেন। এখন তহবিল–সংকটের কারণে কাজ থেমে আছে। আগে সড়কের নালার কাজ হচ্ছে। পরে সড়ক হবে। নালা না করলে পানি নামবে না।
কলেজ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ষাটের দশকে আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের স্নাতক শাখা চালু হয়। বর্তমানে এখানে স্নাতক সম্মান ও পাস এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ২২টি বিষয়ে প্রায় ২২ হাজার ১৬১ জন শিক্ষার্থী পড়ছেন। প্রতিদিন কলেজের সামনের একমাত্র এ সড়ক দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। ধর্মপুর, দৌলতপুর ও শহরতলির পশ্চিম এলাকার বাসিন্দারাও এ সড়ক ব্যবহার করেন। ২০০৭ সালে সড়কটির ইট ও খোয়া উঠে গর্ত তৈরি হয়। এরপর কয়েক দফা গর্ত ভরাট করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত ও ভারী যানবাহনের চাপে তা টেকে না। তিন বছর আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়। কিন্তু দুই পাশে পানি নামার ব্যবস্থা না থাকায় সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এরপর দিনের পর দিন সেটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে।
নবাব ফয়জুন্নেছা ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থী তাসনিম তাবাসসুম বলেন, হল থেকে বের হয়ে দেবীদ্বারে যেতে হলে পানি ও কাদাযুক্ত সড়ক মাড়িয়ে যেতে হয়। বছরের পর বছর এ অবস্থা বিরাজ করছে। কিন্তু এ সড়ক সংস্কার হচ্ছে না।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ধর্মপুর মোড়ের রিয়াদ স্টোর ও বার্জার দোকানের সামনে অন্তত ছয়টি ডোবা। সেখানে পানি জমে আছে। এর ওপর দিয়ে ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন বাহন চলাচল করছে। ধর্মপুর পারভেজ স্টোরের সামনে ইট-সুরকি উঠে গর্ত হয়ে আছে। কলেজের মসজিদের পশ্চিম পাশে ও লিলি ভবনের সামনের অংশ কাদাময়। নজরুল হলের সামনের অংশে চষা জমির মতো।
দৌলতপুর ইডেন নিবাস, মিজান স্টোর, হোটেল আল্লাহর দান এলাকায় পানি নামার ব্যবস্থা নেই। পান্থনিবাস, মিনাবাজার হেলেন গার্ডেন ও দৌলতপুর টিঅ্যান্ডটি মোড়ে পানি থইথই করছে। জাহানারা মঞ্জিলের সামনে অন্তত চারটি বড় গর্ত। দৌলতপুর জাহাঙ্গীর ও মোবারক স্টোরের সামনে পানি নামার পথ নেই। রাসেল টেলিকম, মসজিদের সামনে, রুমি টেইলার্স, দৌলতপুর উদীয়মান সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতি ভবনের সামনে, ভাইয়া ভিলা ও দৌলতপুর রেলক্রসিং এলাকা পর্যন্ত সড়কের যাচ্ছেতাই অবস্থা।
ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুস সালাম বলেন, সড়কটি ভালোভাবে সংস্কার করা দরকার।
জেলা পরিষদ, এলজিইডি ও সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সড়কটির দেখভাল করার কথা জেলা পরিষদের। কিন্তু বরাদ্দ না থাকার কারণে জেলা পরিষদ বছরের পর বছর এটি সংস্কারে হাত দেয়নি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর কুমিল্লা-৬ আসনে আ ক ম বাহাউদ্দিন প্রথমবারের মতো সাংসদ হন। ২০০৯ সালে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। পরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন সড়কটি সংস্কার করে। তখন নালা না করার কারণে সড়ক টেকেনি। ২০১৮ সালে সিটি করপোরেশন উন্নয়ন প্রকল্প কর্মসূচির (ডিপিপি) আওতায় এর সংস্কারকাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে শাসনগাছার কিছু অংশে নালার কাজ শুরু হয়েছে। দুই মাস আগে তহবিল না থাকায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে চার দিনের বৃষ্টিতে পথ চলাই দায় হয়ে পড়ে।
জানতে চাইলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, এপ্রিলে তহবিল আসবে। তখন পুরোদমে কাজ শুরু হবে।