
বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া নষ্ট ফল, আদা-রসুন ও মাছ ধ্বংস করার দ্বিতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার নগরের পতেঙ্গা এলাকার বিজয়নগরের বাসিন্দাদের বাধার মুখে পড়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রতিবাদে সকালে বিমানবন্দর সড়কের পাশে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। তাঁদের বাধার মুখে প্রায় দুই ঘণ্টা পণ্য ধ্বংস করার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে বৈঠকের পর আবার কার্যক্রম শুরু করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
গতকাল দ্বিতীয় দিনে ১৩ কনটেইনার নষ্ট পণ্য ধ্বংস করা হয়। এ নিয়ে মোট ৩০ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংসের তালিকায় রয়েছে আরও প্রায় ৫৯ কনটেইনার নষ্ট পণ্য।
কাস্টমস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ধ্বংসের তালিকায় থাকা পণ্যের মধ্যে পচা মাছ থাকায় দুর্গন্ধ বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। পচা মাছবাহী কনটেইনার বন্দর থেকে বিজয়নগর এলাকায় নেওয়ার সময় কনটেইনার থেকে সড়কে পচা মাছের পানি পড়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তবে বেশি দুর্গন্ধ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য গত মঙ্গলবার ধ্বংসকরণ কর্মসূচির প্রথম দিনে বড় গর্ত খুঁড়ে প্রথমে পচে যাওয়া মাছ ফেলা হয়। এর ওপর নষ্ট হয়ে যাওয়া ফল, আদা ও রসুন ফেলা হয়। এরপরও দুর্গন্ধ থাকায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সালেহ আহমেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, দুর্গন্ধে এলাকাবাসী টিকতে না পারছেন না। এরপরও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে আরও ১৩ কনটেইনার নষ্ট পণ্য বিজয়নগর এলাকায় ধ্বংসকরণের কার্যক্রমে সম্মত হয়েছেন এলাকাবাসী। তবে এই ১৩ কনটেইনারের পর নতুন করে এই এলাকায় নষ্ট পণ্য ধ্বংস করা যাবে না, এমন সমঝোতা হয়েছে।
জানতে চাইলে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মিয়া মো. নাজমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, দুর্গন্ধ যাতে না হয় সে জন্য সড়কে ও গর্তে বিপুল পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার, কেরোসিন ও ফিনাইল ছিটানো হয়েছে। এই দুর্গন্ধ থাকবে না। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাঁরা সম্মত হওয়ার পর ১৩ কনটেইনার নষ্ট পণ্য ধ্বংস করা হয়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব পণ্য আমদানি করা হয় ২০১০ সাল থেকে এ বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। পণ্য আমদানির পর ব্যবসায়ীরা নানা কারণে তা খালাস না নেওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিক্রির জন্য নিলামে তুলে। কিন্তু নিলামেও বিক্রি হয়নি। পরে নষ্ট হয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় তা ধ্বংস করা হয়নি। অবশেষে উদ্যোগ নেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস না নিলে আমদানির সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষই আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়। যেমন আমদানি-প্রক্রিয়ার শুরু থেকে বন্দরে আসা পর্যন্ত পণ্যের দামের পুরোটা বা আংশিক বিদেশি মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয় ব্যবসায়ীকে। কিন্তু পণ্য আসার পর ব্যবসায়ী তা খালাস না করলে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করে কাস্টমস। নিলামে বিক্রি না হলে রাজস্ব হারায় কাস্টমস। আবার ওই ব্যবসায়ীর পণ্য খালাস না নেওয়ায় তাঁর কাছ থেকেও শুল্ককর পায় না। বন্দর কর্তৃপক্ষও কনটেইনার রাখার ভাড়া পায় না। কনটেইনারের মালিকপক্ষও কনটেইনার ভাড়ার কাজে ব্যবহার করতে পারে না। কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকলেও ক্ষতিপূরণ মাশুলও আদায় করতে পারে না আমদানিকারকের কাছ থেকে।