দুর্নীতি দমন কমিশনের সংশোধিত আইনে জজ, ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কর্মীদের ‘সুবিধাসংক্রান্ত’ ৩২ (ক)-এর ধারা কেন সংবিধানের পরিপন্থী বলে ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আজ সোমবার বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব, আইনসচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ১০ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন আইন সংসদে পাস হয়। ২০ নভেম্বর আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, ৩২ (ক)-এর বিধান সাপেক্ষে এই আইনের অধীনে জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারা আবশ্যিকভাবে পালন করতে হবে।
১৯৭ ধারায় বলা আছে, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মকর্তা কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত হলে সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো আদালত সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিতে পারবেন না। কোন আদালতে এই মামলার বিচার হবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দেবে।
এই ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে চারজন আইনজীবী আজ রিট আবেদনটি করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম।
মনজিল মোরসেদ শুনানিতে বলেন, ২০০৪ সালে দুদক আইনে সুস্পষ্টভাবে কমিশনের স্বাধীনতার কথা বলা আছে। আইনের ২০ (১) ধারা অনুসারে ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা-ই থাকুক না কেন, দুদক আইনের অধীনে অপরাধযোগ্য বিষয়গুলো কমিশন কর্তৃক তদন্তযোগ্য হবে। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান। কিন্তু সংশোধনীতে জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক। সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে তা বাতিলযোগ্য।