প্রতিষ্ঠার ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন হয়নি কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌরসভায়। আদালতে দুটি মামলা থাকায় ওই পৌরসভার বাসিন্দারা এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর পাননি। এ অবস্থায় এখানে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
দেবীদ্বার পৌরসভার কর্মকর্তা সূত্র জানায়, ২০০২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌরসভা হয়। ২০০৩ সালের ১২ মার্চ দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের একটি আধা পাকা ভবনে পৌরসভার অস্থায়ী কার্যালয় চালু হয়। ২০০৫ সালে পৌরসভার পশ্চিম প্রান্তের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুনাইঘর এলাকায় এক কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দোতলা একটি পৌর ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে সেখানে পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়।
২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেবীদ্বার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় আলমপুর এলাকার আবদুল মতিন বাদী হয়ে ‘পৌরসভা চান না’ মর্মে আদালতে একটি মামলা করেন। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দূরত্বের অজুহাত দেখিয়ে সেখান থেকে পৌরসভার কার্যক্রম স্থানান্তর করে উপজেলা পরিষদ-সংলগ্ন পৌর পাঠাগারে আনা হয়। ২০০৯ সালের ১৭ মে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদর এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান পাঠান সীমানা নির্ধারণ নিয়ে মামলা করেন। দুই মামলার কারণে ওই পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে না। তবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লার অন্য পৌরসভাগুলোতে ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেও একটি মামলার বাদী আবদুল মতিনকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। অপর মামলার বাদী আসাদুজ্জামান পাঠান বলেন, ‘দেবীদ্বার পৌর এলাকাটি আয়তনে বড় হওয়ায় আমি মামলাটি করি।’
পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি এ বি এম আতিকুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে পৌরসভার কাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে। রাজস্বও বেড়েছে। তাই দ্রুত নির্বাচন হওয়া দরকার।
পৌরসভার সচিব শহীদুল ইসলাম বলেন, তিন বছর ধরে দেবীদ্বার পৌরসভার গড় বার্ষিক আয় এক কোটি ২৬ লাখ টাকা। এ পৌরসভায় প্রতিনিয়ত রাজস্ব বাড়ছে। অচিরেই এটি ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত হবে।
এ ব্যাপারে দেবীদ্বার পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, মামলা থাকায় নির্বাচন হয়নি। দ্রুত নির্বাচন হওয়া দরকার। এখানে জনবসতি বাড়ছে। রয়েছে প্রচুর শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
জানতে চাইলে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ এ বি এম গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, মামলার দুই বাদীকে একাধিকবার মামলা প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়েছে। তাঁরা এতে সাড়া দেননি। এ কারণে দেবীদ্বার পৌরসভার উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছে।