
কুমিল্লার লালমাইতে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী নিলুফা আক্তারকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় নারীসহ দুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এম এ আউয়াল এই আদেশ দেন।
২০১০ সালের জানুয়ারিতে উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের মাতাইনকোট গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। আদালত আসামিদের যাবজ্জীবনের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন লালমাই উপজেলার মাতাইনকোট গ্রামের আবু তালেব ও একই গ্রামের জোছনা বেগম। এর মধ্যে আবু তালেব কারাগারে আছেন। জোসনা বেগম ঘটনার পর থেকেই পলাতক।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের শেষের দিকে কুমিল্লার মাতাইনকোট গ্রামের সেলিম মিয়ার মেয়ে নিলুফা আক্তারকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকবার ধর্ষণ করে একই গ্রামের মকবুল আহমেদের ছেলে আবু তালেব। একপর্যায়ে ওই কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এরপর আবু তালেবকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয় ওই কিশোরী। এতে কোনোভাবেই রাজি হননি আবু তালেব। এরপর ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিলুফার বাবা সেলিম মিয়া ঘরে ছিলেন না। এই সুযোগে আবু তালেব নিলুফাদের ঘরে যান। এরপর তাঁকে বাড়ির উঠোনে ডেকে আনেন। এই সময় পরিকল্পনা মোতাবেক একই বাড়ির আবদুর রহমানের স্ত্রী জোসনা বেগম নিলুফার মুখ চেপে ধরেন। আর আবু তালেব নিলুফার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, আহত নিলুফাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। আগুনে নিলুফার শরীরের ৮৪ শতাংশ পুড়ে যায়। এই অবস্থায় ২৬ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্বাহী হাকিমের কাছে জবানবন্দি দেয় নিলুফা। এতে সে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে ৩১ জানুয়ারি ভোরে ওই কিশোরী মারা যায়। এই ঘটনায় আবু তালেব ও জোসনা বেগমকে আসামি করে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম ২০১০ সালের ১৭ এপ্রিল এই দুজনের নামে অভিযোগপত্র দেন। পরে আদালত ১৮ জনের সাক্ষী নেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বিশেষ কৌঁসুলি প্রদীপ কুমার দত্ত আসামিদের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজকে রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। নিহত নারীর পক্ষের কারও কাছ থেকে এই রায়ের ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো তাঁর কাছে জানাননি।