
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম: আমাদের সংবিধান নারী-পুরুষের সমানাধিকারকে নিশ্চিত করেছে। কিন্তু সমাজে নারী-পুরুষের চরম বৈষম্য দেখা যায়। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন।
প্রতিনিয়ত নারীকে ঘরে-বাইরে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে। যেমন নগরে নারীর একা চলাচলে নিরাপত্তার অভাব। যানবাহনে চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা, প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি ও আইনের সঠিক প্রয়োগের অনিশ্চয়তা নারীর স্বাধীন চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এসব অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে ঘিরে নাগরিক ভাবনাগুলোর সমন্বয় সাধন এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পড়েছে। আলোচকদের মধ্য থেকে এসব বিষয় আলোচনায় আসবে। এখন আলোচনা করবেন শাহনাজ আরেফিন।
শাহনাজ আরেফিন
একটা নগরে নারী-পুরুষ সবার সমান অধিকার থাকবে। সবাই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের এই নগরে নারীরা কি স্বাধীন? তাঁরা কি মুক্তভাবে সব জায়গায় যাওয়া-আসা করতে পারছেন? না। এই নগর নারীদের জন্য মোটেই নিরাপদ না। ঘর থেকে বের হলেই মনের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক কাজ করে ঠিকভাবে ঘরে ফিরতে পারবে তো? পথে কোনো সমস্যা হবে না তো? রাস্তা, যানবাহন, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোথাও নারী আজ নিরাপদ বোধ করতে পারছেন না।
তাহলে এই নগরে নারীর সুবিধা কোথায়? নগরে নারীর কি স্বীকৃতি আছে? তিনি কি পারছেন পুরুষের মতো করে সব সুবিধা ভোগ করতে? নারী যখন অফিসে যাওয়ার জন্য সকালে যানবাহনে ওঠেন এবং দিন শেষের ক্লান্তি নিয়ে যানবাহনে ঘরে ফেরেন, এই দুই সময়েই তাঁকে খুব অসম্মানজনক অবস্থায় চলাচল করতে হয়।
নগরের ফুটপাতে কি নারী চলাচল করতে পারেন? এখানে কি কোনো নারীবান্ধব টয়লেট আছে? রাতে নগরের সব পথে কি ঠিকমতো বাতি জ্বলে? ঘর থেকে বের হলে অনেক ক্ষেত্রে নারীকে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ নারীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা করেছে। এসব গবেষণায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসহযোগিতা, বিচারহীনতা, যানবাহন, কর্মক্ষেত্র, রাস্তা, পার্ক ও বাজারে নারীর নিরাপত্তাহীনতার চিত্র এসেছে।
নারীকে নিরাপদ করার দায়িত্ব আপনার, আমার সবার। সবাইকে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। নারী পেছনে থাকলে দেশ সামনে এগোতে পারবে না।
ফারাহ্ কবির
আমাদের মধ্যে মেয়র আনিসুল হক আছেন। তিনি সব কাজের সঙ্গে নারীদের বিষয়েও কাজ করছেন। পোশাকশিল্প থেকে বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে। এখানে নারীদের বিশাল অবদান রয়েছে। এই নারীদের কি নিরাপত্তা আছে? তাঁরা নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন? কেবল পুরুষদের নিয়ে কি দেশটা মধ্যম আয়ের দেশ হবে? দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই নারীদের কথা আমাদের ভাবতেই হবে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে কখনো কখনো লাঞ্ছনাসহ হত্যার শিকারও হতে হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মেয়র হিসেবে আনিসুল হককে প্রথমে একটা অনুরোধ করব, তা হলো ঢাকা মহানগরের প্রতিটি বিলবোর্ডে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা-বিষয়ক একটা তথ্য থাকতে হবে। এতে নাগরিক ও করপোরেট খাতের নারীর প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। সরকারি ও বেসরকারি গণপরিবহনেও এ তথ্য দেওয়া প্রয়োজন।
আনিসুল হক
আমাকে আপনারা মেয়র নির্বাচিত করেছেন। আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি কিছু করার জন্য। অন্তত এটুকু বলতে পারি, সজাগ আছি। কাজ করছি। পোশাকশিল্পের নারীরা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেন। তবু তাঁরা নির্যাতিত হচ্ছেন। তাঁদের শরীর স্পর্শ করে বাসে ওঠানো-নামানো হয়। এটা অশোভন ও অরুচিকর। কিন্তু আমাদের দেশে এটা নিয়মে পরিণত হয়েছে।
নগরে একসময় নারীদের জন্য কিছু বাস ছিল। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটা নিয়ে কথাও বলেছি। তিনি নারীদের সব ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক। টয়লেটের বিষয় খুব গুরুত্ব দিচ্ছি। নিজেই অনুভব করেছি, নগরে টয়লেট না থাকায় নারীদের অসুবিধা হচ্ছে। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। আগামী বছরে মহানগরে নারীদের জন্য ১০০ টয়লেটের ব্যবস্থা হবে। ফারাহ্ কবির নগরের বিলবোর্ডে নারীর নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার কথা বলেছেন। এটি আমার আওতার মধ্যে আছে। কাজটি আমি করতে পারব।
আমদের অনেক কাজ। একটা করতে গেলে আরেকটা করা হয় না। বস্তি এলাকার কাজ দেখাশোনার জন্য একজন সচিবকে দায়িত্ব দিয়েছি। আমরা একটা স্বেচ্ছাসেবক দল করব। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ইচ্ছে করলে একজন দিতে পারে। নগরে নারীদের সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয় তাঁরা তদারক করবে।
মহানগরের সড়কগুলোয় অতিরিক্ত যানবাহন নামছে। সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশে এক দিন পরপর গাড়ি বের করার নিয়ম আছে। আমাদের এখানেও এমন কিছু করার বিষয় ভাবা প্রয়োজন বলে মনে করি।
নগরে কম–বেশি সাত হাজার গণপরিবহন চলে। বড় ধরনের বাস একটি প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হলে গণপরিবহনের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। মালিকদের ডেকে বলেছি, ৫ শতাংশ ঋণের ব্যবস্থা করে দেব, আপনারা মানসম্মত বড় গাড়ি নামান, যাতে নগরে চার হাজার গণপরিবহনই যথেষ্ট হয়।
তেজগাঁও থেকে ট্রাক সরিয়ে ফেলা শুরু করেছি। হয়তো অল্প দিনে এ কাজ শেষ হবে। এসব জায়গায় অনেক ধরনের স্বার্থ জড়িত। চাইলেই অনেক কিছু পারি না। মেয়রের পক্ষে করা সম্ভব, এমন পাঁচটি কাজ আমাকে দেন। আমি এগুলো করার চেষ্টা করব।
শাহনাজ হুদা
মহানগরে সন্ধ্যার পর নারীরা কতটুকু নিরাপদ? অনেক ক্ষেত্রে মানুষের সামনেই নারীদের অসম্মান করা হচ্ছে। নারীদের জন্য আলাদা বাসের বিষয়টি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু আমার কথা, একই বাসের মধ্যে কেন নারীদের নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না। এটা আমাদের ব্যর্থতা নয়? আমাদের আইনের তো কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে আইন প্রয়োগের। একজন নারী যখন অসম্মানিত হন, তিনি কিন্তু পুলিশের কাছে যেতে চান না। আবার পুলিশের নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় অনিয়ম আছে। যিনি অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন, তিনি কার্যক্ষেত্রে কতটুকু মানুষকে সাহায্য করবেন, এটি একটি প্রশ্ন। আমরা শিক্ষার্থীদের আইনের বিভিন্ন দিক বোঝাই। সামাজিক প্রেক্ষাপট বোঝাই। তারা যেন নারীদের সম্মান করে। এর বেশি তো কিছু করতে পারি না।
কিন্তু বাস্তবে আইন প্রয়োগ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নারী সুরক্ষার পর্যাপ্ত আইন আছে। আইনের কীভাবে সঠিক প্রয়োগ করা যায়, তার উদ্যোগটা জরুরি।
এস এম নাহিয়ান
নগরে নারীর নিরাপত্তাহীনতা আছে। নারী কোনো দুর্ঘটনায় পড়ার পর আমরা খবর জানছি। কিন্তু নারীর কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই কীভাবে জানতে পারি, তার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে নগরের মানুষকে সচেতন করা যেতে পারে। মানুষের মানসিকতা ও আচরণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। আবার এইনগরের কাঠামোগত অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন: পাবলিক টয়লেট, পরিবহন, রাস্তার বাতি ইত্যাদি।
নারীকে নিরাপত্তা দিতে হলে এসব বিষয়ে অনেক কাজ করতে হবে। কাজের একটা ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন। একটা নিরবচ্ছিন্ন তদারকের মধ্যে রাখতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের অবকাঠামোগুলো অকেজো হয়ে থাকে। এগুলো যাতে সর্বক্ষণ কার্যকর থাকে, সে ব্যাপারে লক্ষ রাখতে হবে।
মেয়র ১০০টা টয়লেট করার কথা বলেছেন। টয়লেটগুলো হয়তো করা হলো। এটা যদি রক্ষণাবেক্ষণ করা না হয়, তাহলে আবার অকেজো হয়ে পড়বে।
অবকাঠামোগত পরিবর্তন যা-ই করা হোক না কেন, তা যদি উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ না হয়, তাহলে এগুলো কোনো কাজে আসবে না। মেয়রকে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে কিছু অবকাঠামোগত কােজর প্রস্তাব দিতে পারি।
শরীফ মোস্তফা হেলাল
নিরাপদ নগরী নিয়ে আমরা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছি। ‘নিরাপদ নগরী’ ও ‘শি ক্যান’ নামে দুটো প্রকল্প চলছে। দেশের সাতটি বিভাগে কাজ করছি। একজন নারী যখন ঘরের বাইরে বের হন, তাঁর নিরাপত্তা কতখানি? আবার আরও একটি বড় প্রশ্ন হলো, ঘরের ভেতর কি নারী নিরাপদ? আমরা কেবল নগরে নারীর নিরাপত্তার কথা বলছি। কিন্তু নারী তো ঘরেই নিরাপদ নন।
প্রতিনিয়ত আমরা খবর পাই যে ঘরের মধ্যে নারী নির্যাতিত হচ্ছেন। ঘরের ভেতর নারীকে কীভাবে নিরাপত্তা দেব, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। এটা নিয়েও আমাদের সবার কাজ করতে হবে।
আমরা কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে কাজ করি। ঘর থেকে একজন শিশুকে অাচরণ, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে।
ঘরে মা-বাবাসহ বড়দের আচরণ পরিশীলিত হওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ, পরিবারের আচরণ শিশুদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীরা মর্যাদা পাচ্ছেন কি না, সে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন।
আমার সামনে একজন নারীকে অপমান করা হচ্ছে, আমি কোনো প্রতিবাদ করছি না। এটা তো হতে পারে না।
আয়শা খানম
পারিবারিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার থেকে একজন মানুষ যদি নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সততার শিক্ষা পায়, সে বাইরের পরিবেশে অবশ্যই নারীকে সম্মান করবে। আর যদি এ শিক্ষা না পায়, তার দ্বারা নারীদের অসম্মানিত হওয়ার প্রবণতা থাকে বেশি।
পরিবার থেকে যেন প্রত্যেকে ভালো মানুষ হতে পারে, সে জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। পারিবারিক শিক্ষার পরই আসে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকেরা একে অপরকে সম্মান দেখান। তাঁরা মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা দেবেন।
বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে যদি একজন শিক্ষার্থী মানবিক শিক্ষা না পায়, তাহলে বড় হয়ে সে কেমন মানুষ হবে? তাই পরিবার ও প্রাতিষ্ঠানে মানবিক শিক্ষা খুব জরুরি। মেয়রকে অনুরোধ করব, তিনি যেন সিটি করপোরেশনের যাবতীয় কাজের সঙ্গে নারী কাউন্সিলরদের বেশি সম্পৃক্ত করেন।
আমাদের যথেষ্ট নারীবান্ধব আইন আছে। কিন্তু এগুলো সম্পর্কে অনেকে জানেন না। তাই এর সঠিক প্রয়োগও হচ্ছে না। পারিবারিক সুরক্ষার আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আইনের বিভিন্ন বিষয় প্রচার করতে হবে।
দেশে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আছে। সেখানে লোকবল ও লজিস্টিক অনেক বাড়ানো দরকার। নারীর নিরাপত্তার জন্য সবাই মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আবুল হোসেন
সবারই কাজের আন্তরিকতা আছে। তারপরও কোথায় যেন একটা বাধা কাজ করছে। প্রায় সবকিছুর মধ্যে একটা লম্বা হাত আছে। যে কারণে সঠিকভাবে কোনো কাজই হচ্ছে না। কোনো নারী বিপদ–আপদে ১০৯২১ নম্বরে ফোন করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে সাহায্য করবে। কিন্তু অধিকাংশ নারী নম্বরটি জানেন না। আমাদের এই সেবা নেওয়ার জন্য একসঙ্গে ৩০ জন ফোন করতে পারবেন। সবাই সাহায্য পাবেন।
নম্বরটি গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করা হয়েছে। মোবাইল কোম্পানিগুলো প্রচার করছে। তারপরও অধিকাংশ নারীই এটা জানেন না। প্রতিদিন ১৮০ থেকে ২০০টি কল আসে।
আমরা কীভাবে কাজ করি: ধরা যাক কারওয়ান বাজার বা টেকনাফে একজন নারী বখাটেদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি আমাদের নম্বরে ফোন করবেন। আমরা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ভুক্তভোগীর নিকটের পুলিশ স্টেশনে ফোন দিয়ে তাঁকে সাহায্য করার কথা বলি।
পুলিশের ভ্রাম্যমাণ দল ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে সমস্যার সমাধান করছে। রংপুরে এক মেয়ে আমাদের ফোন করে বললেন, বখাটেরা তাঁকে পরীক্ষা দিতে দেবে না। আমরা স্থানীয় থানায় ফোন করলাম। থানা থেকে বলল, ওই মেয়ে পুলিশের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা দিতে যাবেন এবং বাড়িতে ফিরে যাবেন। প্রতিদিন প্রায় ২০০টি টেলিফোন কল আসে এবং এভাবে আমরা তাঁদের সাহায্য করি। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র—সর্বত্র আচরণ পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা দিতে হবে। ধীরে ধীরে একসময় অবশ্যই পরিবর্তন আসবে।
নাসিমুন আরা হক
সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালে আমাদের উন্নত দেশ হওয়ার প্রতিশ্রুতি আছে। নগরে মেট্রোরেল আসছে। নগরেরও উন্নয়ন হচ্ছে। সবকিছুর পর এই নগরের নারীর যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
ঘরে-বাইরে, নগরে-গ্রামে সব জায়গায় নারী নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। আজ হয়তো নগরকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। এটা অনেক পুরোনো সমস্যা। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে এ সমস্যা চলতেই থাকবে। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যেতে পারে না। এর বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতেই হবে। এখানে গণমাধ্যমের একটা ব্যাপক ভূমিকা আছে। পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি আনতে হবে।শিক্ষার্থীদের শিশুবয়স থেকেই নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বিষয়টি শেখাতে হবে। স্কুলশিক্ষকেরা ভুক্তভোগী নারীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন কি না, বাসের যাত্রীরা নারীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন কি না—এসব জায়গায় পরিবর্তন আনতে হবে। মানুষ কিন্তু এখন আগের তুলনায় বেশি প্রতিবাদী হয়েছে। অনেকে প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণও দিয়েছে।
কয়েক দিন আগে দুটি মেয়েকে ধর্ষণের প্রতিবাদে সাতক্ষীরার মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। সারা দেশের মানুষ যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে ঘরে-বাইরে, নগরে-গ্রামে সর্বত্র নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
মো. কামরুল ইসলাম
নির্যাতনের হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩৭৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ জন শিশু, যাদের বয়স ৯ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। এই শিশুরা জীবনের শুরুতে ভয়ানক অভিজ্ঞতার শিকার হলো। হয়তো জীবনভর তাদের এই যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে হবে। তারা বড় হয়ে রাষ্ট্রের জন্য কতটুকু অবদান রাখতে পারবে?
অনেকে নৈতিক শিক্ষার কথা বলেছেন। সবার সঙ্গে আমিও একমত যে নৈতিক শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। যারা অপরাধ করছে, তারা জানে এটা অপরাধ। কিন্তু নিজের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ এত দুর্বল যে অপরাধ থেকে ফিরে আসতে পারছে না। দেশের উন্নতির সঙ্গে নারী-পুরুষের বৈষম্য বেড়েছে। উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আয়ের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অনেক বৈষম্য রয়েছে।
এসব বৈষম্য দূর করতে না পারলে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। যাঁরা শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হন, তাঁরা মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে জীবন চালান। তাঁরা নিজের, পরিবারের ও রাষ্ট্রের জন্য অবদান রাখতে পারেন না।
যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সেল আছে। কেউ নির্যাতনের শিকার হলে এ সেল ব্যবস্থা নেয়। আমার প্রস্তাব হলো, নির্যাতন যাতে না হয়, তার জন্য সারা বছর সচেতনতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে হবে।
মুহাম্মদ শওকত আলী
আমরাও আমাদের বোন-সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকি। আমাদের প্রধান কাজ পরিবহনের শৃঙ্খলা রক্ষা করা। যাত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়া। প্রতিদিন টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখি ২০ থেকে ৩০ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ দিচ্ছে। এটা কোনো মানুষের কাম্য হতে পারে না।
শিশু-নারীরাই বেশি দুর্ঘটনার শিকার হন। নগরে বিআরটিসির (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা) বাসসহ অন্যান্য বাস, মিনিবাস ও ট্রাক চলে। প্রতিটি বড় বাসে নারীদের জন্য নয়টি, মিনিবাসে ছয়টি ও বিআরটিসির বাসে ১৩টি আসন থাকবে।
ইঞ্জিন কভারে নারীদের কোনো আসন নেই। ইঞ্জিনের পাশে তাঁদের বসানো উচিত নয়। আমরা যাচাই-বাছাই করে রাস্তায় চলার উপযোগী গাড়িগুলোকেই ছাড়পত্র দিই। তবে অনেক ক্ষেত্রে কিছু চাপ যে থাকে না তা নয়। কিন্তু আমরাও অনেক বেশি সচেতন।
চালকের সহকারীরা নারীদের গাড়িতে ওঠানো-নামানোর সময় কিছু অশোভন আচরণ করেন, এটা ঠিক। তবে যাত্রীদের দ্বারাও নারীরা নির্যাতিত হন। আমরা চালক ও চালকের সহকারীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, তাঁদের আচরণ ঠিক হবে।
আলোচনায় নারী চালক ও নারী সহকারী দ্বারা বাস পরিচালনা করা যায় কি না, আলোচনায় এ বিষয় এসেছে। এটা করতে পারলে খুব ভালো হয়। পরিবহনের ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ খুব ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করি।
ফওজিয়া খন্দকার
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বাসের চালক ও সহকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়। তবে সেখানে নারী নির্যাতনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা আছে কি না, আমরা জানি না। বিলবোর্ডের মতো বাসের গায়েও সচেতনতামূলক তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ভাবা যেতে পারে।
নারী বাইরে এলে মনে করা হয়, তাঁরা কেন বাইরে এসেছেন? এ ধরনের বোধ আমাদের মধ্যে কাজ করে। যত দিন পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন না আসবে, তত দিন সচেতনতার কাজ করে যেতে হবে।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নারীবান্ধব সমাজের কথা বলছি, নারীর স্বাভাবিক প্রয়োজনের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুরুষসমাজ নারীর প্রতি অন্যায় আচরণ করছে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তবে এ বাহিনীকে আরও জেন্ডার সংবেদনশীল হতে হবে।
কেবল দুএকবার প্রশিক্ষণ দিলে সব ঠিক হবে এমন না; নারীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। থানা পর্যায় পর্যন্ত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। সারা দেশে আটটি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আছে। সেখানে নির্যাতিত নারীদের পরিচর্যা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় হয়তো অনেক কম। থানাগুলোয় নারী পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। আবার নারী পুলিশ হলেই যে তিনি নারীবান্ধব হবেন, তা নয়। অনেক সময় নারীদের দ্বারাও নারীরা নির্যাতিত হন। ফলে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। নারী–পুরুষ উভয়কে জেন্ডার সংবেদনশীল হতে হবে।
রখফার সুলতানা খানম
অধিকাংশ নারী তাঁর পরিচিত মানুষের দ্বারা নির্যাতিত হন। তাঁদের আগের কোনো তথ্য থাকে না। ফলে, এ ক্ষেত্রে অনেক সময় আমাদের সমস্যা হয়। আবার আগে থেকেই যদি কাউকে প্রশ্ন করি এর মধ্যেও জটিলতা তৈরি হয়। সব জায়গায় যেমন ভালো লোক আছে, তেমনি কিছু খারাপ লোকও আছে।
দুএকজনের খারাপ কাজের জন্য সবাইকে দায়ী করা ঠিক নয়। তবে আমি মনে করি, জীবনের শুরুতে এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা দরকার, যেখানে একজনের প্রতি অন্যজনের সম্মানবোধ থাকবে, নৈতিকতা থাকবে, মূল্যবোধ থাকবে, সর্বোপরি নারী-পরুষ সমান—এই মানসিকতায় সবাই গড়ে উঠবে।
শিক্ষার মধ্যে আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও থাকবে। অপরাধীরা জানে যে এটা অপরাধ। কিন্তু তারা অপরাধের বিষয়টি অনুভব করতে পারে না। এই জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। হয়তো কাজটা সহজ নয়।
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী সংবেদনশীলতার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, এনজিও, সাধারণ মানুষ—সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পুরুষনিয়ন্ত্রিত সমাজের বলয় থেকে নারীরা বের হতে পারছেন না। নারীর সমানাধিকার, তাঁর প্রতি সম্মানবোধ পরিবার থেকে এ শিক্ষাগুলো হওয়া উচিত। একসময় ঢাকা মহানগরে নারীদের জন্য কিছুসংখ্যক বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যাত্রীসংকটের জন্য আবার তা বন্ধ করা হয়। আমি নিজেই এ বিষয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। পুলিশ সদর দপ্তরে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল আছে। পুলিশ অনেক ভালো কাজও করে। এগুলো খুব একটা আলোচনায় আসে না। ভবিষ্যতে পুলিশ আরও ভালো কাজ করবে।
ফারাহ্ কবির
নারীর নিরাপত্তা নিয়ে সামগ্রিকভাবে কাজ করতে চাই। আজ আমরা নগরীতে নারীর নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে কথা বলছি। গত বছর বিআইডিএস ইনস্টিটিউট ও আমরা একটি গবেষণা করেছিলাম। এ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ নারী বলছেন, নগরে তাঁরা নিরাপদ নন। রাস্তা ও পরিবহনে চলাচলে সমস্যা, পাবলিক টয়লেট নেই, যৌন হয়রানির শিকার হতে হয় ইত্যাদি।
যেহেতু এই নগরীর অর্ধেক নারী, তাঁদের জন্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ১০০টি টয়লেট করার কথা বলেছেন। টয়লেট করার থেকে রক্ষণাবেক্ষণই হবে বড় কাজ। টয়লেট যা আছে, তা সর্বক্ষণই ব্যবহারের অনুপযোগী থাকে।
নারীদের জন্য যা কিছু ব্যবস্থা আছে, তাও নারীরা জানেন না। নারীর সেবাগুলো জানানোর জন্য আরও ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এখন নগরে নারীদের দ্বারা পরিচালিত বাস চালানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
আগে কিছুসংখ্যক বাস নারীদের জন্য ছিল। কিন্তু বেশিদিন রাস্তায় ছিল না। নারীরা প্রতিনিয়ত বাসের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। এখন ব্যবস্থাটি চালু করলে তাঁরা খুবই উপকৃত হবেন।
রাশেদ খান মেনন
নারী নির্যাতনের হার আগের থেকে বেশি বেড়েছে। সংসদে একবার এ বিষয়ে কথা বলেছি। ধর্ষণের হারও বেড়েছে। আগে নারীর প্রতি সম্মানবোধ ছিল অনেক বেশি। এখন একটি জাতি গঠনের প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন কারণে সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হয়েছে। অবক্ষয়ের আরেকটি কারণ হলো বিশ্বায়ন।
এর ফলে নারীকে একেবারে পণ্যের মতো করে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু কোনোভাবেই নারীকে অসম্মানিত হতে দেওয়া উচিত না। নারীর প্রতি অারও সম্মানবোধ দেখাতে হবে। আমাদের মানবিক মূল্যবোধকে ফিরিয়ে আনতে হবে। নারীর প্রতি সম্মানবোধ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, ২৪ ঘণ্টা হেল্প লাইন কার্যকর, প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ, গণমাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা বিরোধী প্রচারণা ও সুশীল সমাজের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
আমার ক্ষেত্র হচ্ছে পর্যটন। এ ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল বিদেশিদের জন্য না, দেশের নারীদের জন্যও। এখানে পর্যটন এলাকার মানুষকেও সচেতন হতে হবে। তাদের বুঝতে হবে যে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তাদের এলাকার উন্নয়ন হবে। এখন পর্যটন পুলিশের ব্যবস্থা করছি। এর মধ্যে নারী পুলিশও থাকবে। পর্যটন ও পর্যটকদের জন্য এটা খুবই ফলপ্রসূ উদ্যোগ।
আব্দুল কাইয়ুম
নারী ঘরে-বাইরে সর্বত্র নির্যাতিত হচ্ছেন। নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের কিছু উদ্যোগও আছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত।
নারীর নিরাপত্তায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
আলোচনায়সুপারিশ
বিলবোর্ড ও বাসের গায়ে নারীর প্রতি সচেতনতামূলক তথ্য দিতে হবে
নগরের কাঠামোগত অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন: পাবলিক টয়লেট, পরিবহন, রাস্তার বাতি ইত্যাদি
ঘর থেকে শিশুকে অাচরণ, মূল্যেবাধ ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী সংবেনশীলতার প্রশিক্ষণ দিতে হবে
যেহেতু মহানগরীর অর্ধেক নারী, তাঁদের জন্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে
পারিবারিক সুরক্ষা আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা জরুরি
যাঁরা অংশ নিলেন
রাশেদ খান মেনন : মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
আনিসুল হক : মেয়র, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
রখফার সুলতানা খানম : এআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ
মুহাম্মদ শওকত আলী : সচিব, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি
আয়শা খানম : সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
ফারাহ্ কবির : কান্ট্রি ডিরেক্টর, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ
আবুল হোসেন : প্রকল্প পরিচালক, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম
শাহনাজ হুদা : অধ্যাপক, আইন অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মো. কামরুল ইসলাম : অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ডিপার্টমেন্ট অব পপুলেশন সায়েন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ফওজিয়া খন্দকার : কম্পোনেন্ট প্রধান, প্রমোটিং জেন্ডার সেনসিটিভ পুলিশিং, পুলিশ সদর দপ্তর ঢাকা
এস এম নাহিয়ান : ন্যাশনাল অফিসার, জেন্ডার অ্যান্ড এইচআইভি
নাসিমুন আরা হক : সভাপতি, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র
শাহনাজ আরেফিন : পরিচালক প্রোগ্রাম, পলিসি অ্যান্ড ক্যাম্পেইন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ
শরীফ মোস্তফা হেলাল : পরিচালক, প্রোগ্রামস, পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি)
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম : সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো