ব্লাস্টের পর্যালোচনা সভায় বক্তারা

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু আইনের সংশোধন প্রয়োজন

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন সংশোধন প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর পর্যালোচনা সভায় তাঁরা এই মত দেন।
পর্যালোচনা সভায় আইনটির কিছু সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলা হয়, আইনে পুলিশ হেফাজতে ও জেলখানায় থাকা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের অভিযোগ দাখিলের পদ্ধতি স্পষ্ট করা নেই। এ ছাড়া তদন্তে গাফিলতি ও ব্যর্থতার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শাস্তি দেওয়ার বিধান নেই।
আইনটির সংশোধনীর সুপারিশে বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিষয়টি বাধ্যতামূলক রাখা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা, ‘মানসিক নির্যাতন’, ‘হেফাজতের’ সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট করাসহ ধর্ষণ, যৌন হয়রানিসহ অন্যান্য জেন্ডারভিত্তিক নির্যাতনের উপাদান অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।
পর্যালোচনা সভায় আন্তর্জাতিক স্থায়ী সালিসি আদালতের সদস্য বিচারপতি মো. আওলাদ আলী আইনটির সংশোধনীর পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি অভিযুক্তের মানবিক মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি আইনটিকে প্রচারের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তদন্তের জন্য ৯০ দিনের পর আর কত দিন দেওয়া হবে আইনে তা স্পষ্ট নেই। আইনটির সংশোধন প্রয়োজন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য জেড আই খান পান্না বলেন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। আইন অনুযায়ী যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান বলেন, আইনটি যে অবস্থায় আছে তা অনুসরণ করলেও পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন কমিয়ে আনা সম্ভব।
দুদকের আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেন, রিমান্ড ছাড়া পুলিশের পক্ষে মামলা তদন্ত করা সম্ভব নয়। আইনে রিমান্ডের বিষয়টি বাদ দিয়ে অন্যান্য বিষয়ের সংশোধন হতে পারে। আইনজীবী পিসি গুহ বলেন, আসামিকে চাপ না দিলে স্বীকারোক্তি আদায় করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাড়াবাড়ি শুধু পুলিশ করে না, আইনজীবীসহ অনেকেই কিছু না-কিছু বাড়াবাড়ি করেন। অন্যদিকে পুলিশ পরিদর্শক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘টক শোতে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের কথা বলা হয়। টক শোতে অংশ নেওয়া অনেকের মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, তাঁরা আসামিকে চাপ দেওয়ার জন্য আমাদের বা ওপরের কর্মকর্তাদের কাছে তদবির করেন। কিন্তু টক শোতে উল্টো কথা বলেন।’
মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, এই আইনে পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। এতে তাঁরা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।
পর্যালোচনা সভায় বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, মানবাধিকার কর্মীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।