নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে আরও দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নুসরাত জাহান
নুসরাত জাহান

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আরও দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা হলেন ওই মাদ্রাসার ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার উদ্দিন রানা ও ইমরান হোসেন মামুন। সোমবার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আজ বেলা ১১টার দিকে তাঁদের দুজনকে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে হাজির করা হয়। দুপুরে তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিআইবির পরিদর্শক মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের (সাইক্লোন শেল্টার) তৃতীয় তলার ছাদে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় রানা ও মামুন মাদ্রাসার গেটে পাহারারত ছিলেন বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন তাঁরা। এ সময় তাঁদের দুজনের সঙ্গে আবদুল কাদের, নুর উদ্দিন এবং শরীফও ছিলেন।

স্বীকারোক্তিতে তাঁরা বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার সঙ্গে তাঁদের দুজনের সুসম্পর্ক রয়েছে। অধ্যক্ষ কারাগারে যাওয়ার পর ৩০ মার্চ তাঁরা অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মিছিল করেন। ১ এপ্রিল কারাগারের ফটকে অন্যদের সঙ্গে তাঁরাও সিরাজ উদদৌলার সঙ্গে দেখা করেন। ৪ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে মাদ্রাসায় একটা সভা হয়। ওই সভায় তাঁরা দুজনও উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই হত্যার মূল পরিকল্পনা হয়। পরিকল্পনামতো ৬ এপ্রিল পরীক্ষার আগে নুর উদ্দিন, আবদুল কাদের, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন ও শরীফ গেটে পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। এ দুজনসহ ১১ জন আসামি নুসরাত হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ৬ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।