দেশে দুর্ঘটনাজনিত কারণে পঙ্গু হয়ে যারা ভিক্ষাবৃত্তি করছেন তাদের মধ্যে ৮২ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভিক্ষুক সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়েছেন। ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ অন্যান্য কারণে পঙ্গু হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এই তথ্য জানিয়েছে।

সংগঠনটির এক গবেষণা বলছে, পঙ্গু ভিক্ষুকদের ৩২ দশমিক ৬৯ শতাংশ মোটরযানের (বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক্টর, ট্রলি) শ্রমিক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন, ভটভটি, চান্দের গাড়ি, টমটম, অটোরিকশা, অটোভ্যান, প্যাডেল রিকশা, ঠেলাগাড়ি ইত্যাদি) চালানোর সময় দুর্ঘটনায় পড়েছেন। মোটরসাইকেলের যাত্রী হিসেবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ পথচারী হিসেবে রাস্তায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৬৩ জন পঙ্গু ভিক্ষুকের ওপর সাক্ষাৎকার ভিত্তিক জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার ১৯টি স্থানসহ ধামরাই, সাভার আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ (আরিচা ও পাটুরিয়া ফেরিঘাট) রাজবাড়ি (গোয়ালন্দ ফেরিঘাট) যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে এই জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়েছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ৫১ দশমিক ৯২ শতাংশ ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১৩ থেকে ২৫ বছর। ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশের বয়স ছিল ২৬ থেকে ৪০ বছর এবং ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশের বয়স ছিল ৪১ থেকে ৬০ বছর।
দুর্ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ২৫ শতাংশ ভুক্তভোগী, অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৫৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। মন্তব্য করেননি ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ ভুক্তভোগী।
শুধু সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন ৮৪ দশমিক ৬১ শতাংশ ভুক্তভোগী। চিকিৎসার কোনো একপর্যায়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভুক্তভোগী।
দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য পারিবারিক সম্পত্তি (জমি ও গৃহপালিত পশু) বিক্রি করেছেন ৬৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভুক্তভোগী পরিবার। বিক্রি করার মতো তেমন সম্পত্তি ছিল না ৩৪ দশমিক ৬১ শতাংশ ভুক্তভোগী পরিবারের।
দুর্ঘটনার পর মোটরযান মালিকদের নিকট থেকে চিকিৎসার জন্য সামান্য সহযোগিতা পেয়েছেন ১১.৫৩ শতাংশ ভুক্তভোগী। তবে কেউই মোটরযানের ঝুঁকি বিমার মাধ্যমে কোনো আর্থিক সুবিধা পাননি।
এ প্রসঙ্গে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছেন ও আহত হচ্ছেন। পঙ্গু ভিক্ষুকদের তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ভাবার ও