সরকারের নির্দেশে দেশে ৫৬০টি পর্নো ওয়েবসাইট বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে এসব ওয়েবসাইট একেবারে বন্ধ হবে না। ধাপে ধাপে এ কাজ করা হবে।
তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
বিটিআরসি সূত্র বলেছে, পর্নো ওয়েবসাইটগুলো বন্ধের জন্য একটি তালিকা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকা ধরে এসব সাইট বন্ধে মুঠোফোন অপারেটর, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি), আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করেছে।
ওয়েবসাইটগুলোর তালিকা তৈরির কাজটি করেছে আপত্তিকর অনলাইন বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ কমিটি। এ কমিটিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি, মুঠোফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের প্রতিনিধি, আইএসপি, আইআইজি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা আছেন। গত ২৮ নভেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ কমিটি গঠন করা হয়।
তারানা হালিম প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত পর্নো সাইটগুলো আগে বন্ধ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রিত সাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে কেউ বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্করা যাতে চাইলেই এসব সাইটে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য নিয়ন্ত্রণ আরোপের পদক্ষেপ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্নো দেখার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিগগির যৌথভাবে প্রচারণা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
পর্নো সাইট বন্ধে বিটিআরসির নির্দেশনা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইএসপির প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, সরকারের নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসব সাইট বন্ধে কাজ শুরু করা হয়েছে।