সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান

পাঁচটি ব্লক বিশেষ আইনে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাস ব্লকগুলো বিশেষ আইনের অধীনে অযাচিত (আনসলিসিটেড) প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ায় একটি ব্লক ইজারা দেওয়ার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আরও চারটি ব্লকের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করার জন্য পেট্রোবাংলাকে প্রস্তাব দিতে বলেছে জ্বালানি বিভাগ।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে। সূত্র বলেছে, মূলত সমুদ্রবক্ষে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান পিছিয়ে পড়ায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে অন্তত কয়েকটি ব্লকে দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করে পিছিয়ে পড়ার ক্ষতি কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা যায়।
‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ শীর্ষক বিশেষ আইনটির মেয়াদ দুই দফায় সংশোধনের মাধ্যমে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই আইনের আওতায় অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও তেল-গ্যাস ব্লক ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ এই প্রথম।
মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার সূত্র জানায়, গভীর সমুদ্রের ১২ নম্বর ব্লকটি ইজারা দেওয়ার জন্য কোরিয়ান কোম্পানি ‘পোসকো দাইউ করপোরেশনের’ সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া, গভীর সমুদ্রের ১০, ১১, ১৬ ও ২১ নম্বর ব্লক বিশেষ আইনের আওতায় ইজারা দেওয়ার জন্য জ্বালানি বিভাগ পেট্রোবাংলাকে প্রস্তাব পাঠাতে বলেছে। সে অনুযায়ী পেট্রোবাংলা প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে।
গভীর সমুদ্রের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির (পিএসসি) আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি কনোকোফিলিপসের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। এই দুটি ব্লকে দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চালিয়ে তেল-গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে কনোকোফিলিপস সরকারের কাছে তেল-গ্যাসের দাম পিএসসিতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়ানোর দাবি করেছিল।
কনোকোফিলিপসের যুক্তি ছিল, গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস উত্তোলনের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় পিএসসিতে নির্ধারিত দামে ওই দুটি ব্লক থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলন করে তাদের পোষাবে না। কিন্তু সরকার পিএসসির বিধান লঙ্ঘন করে দাম বাড়াতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলার মধ্যেই কনোকোফিলিপস পিএসসির অধীনে ১২, ১৬ ও ২১ নম্বর ব্লকেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নির্বাচিত হয়। কিন্তু সরকার তাদের পিএসসি সই করার জন্য আহ্বান জানালেও তারা আসেনি। উপরন্তু তারা ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকও পরিত্যাগ করে চলে যায়। এখন ওই ব্লকগুলো বিশেষ আইনের আওতায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ আইনের অধীনে সমুদ্রবক্ষের তেল-গ্যাস ব্লক ইজারা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানিসচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এই প্রক্রিয়ায় ইজারা দেওয়া অনেক সহজ হয়। সময় কম লাগে। দামও অপেক্ষাকৃত ভালো পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।
আপাতত যে পাঁচটি ব্লক এই প্রক্রিয়ায় ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো ছাড়াও পরে আরও ব্লক এই প্রক্রিয়ায় দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে জ্বালানিসচিব বলেন, পেট্রোবাংলা প্রস্তাব করলে আরও ব্লক এই প্রক্রিয়ায় ইজারা দেওয়া হতে পারে।