জাতীয় সংসদে উত্থাপিত পৃথক তিনটি পার্বত্য জেলা (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) পরিষদ (সংশোধনী) আইন, ২০১৪ বিল প্রত্যাহার ও পরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষে তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা এবং রাঙামাটি আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। গতকাল মঙ্গলবার ওই দুজনের স্বাক্ষরে পাঠানো পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।
গত সোমবার পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম মোকতাদির চৌধুরী বিল তিনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। বিলে অন্তর্বর্তী পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে সদস্যসংখ্যা পাঁচজনের স্থলে ১১ জন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
জনসংহতি সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিল তিনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতি-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত ও দুর্নীতিমুক্ত জবাবদিহিমূলক পরিষদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের বিকল্প নেই। অনির্বাচিত দলীয় লোক দিয়ে পরিচালিত পার্বত্য জেলা পরিষদ কখনো শক্তিশালী ও গতিশীল হতে পারে না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন বিধিমালা ও ভোটার তালিকা বিধিমালা প্রণয়ন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে বলা হয়, অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী পার্বত্য জেলা পরিষদের আকার যতই বাড়ানো হোক, তা কখনো জনমুখী হবে না।
অপর দিকে সাংসদ ঊষাতন তালুকদার অভিযোগ করেন, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচনকে পাশ কাটানো ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নকে সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানে ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় ৩৩ সদস্যের নির্বাচিত পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে সই হওয়া পার্বত্য চুক্তিতে স্থানীয় সরকার পরিষদের কাঠামো ঠিক রেখে নাম পরিবর্তন করে পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়। চুক্তিতে একজন আদিবাসী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে ৩৪ সদস্যের নির্বাচিত পরিষদ গঠন করার শর্ত রাখা হয়। তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আইন সংশোধন করে একজন আদিবাসী চেয়ারম্যানসহ পাঁচ সদস্যের মনোনীত পরিষদ দিয়ে কার্যক্রম চালানোর বিধান করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হচ্ছে।