পিরোজপুরে দুই পরিবারের পাঁচজনসহ জেলায় ছয়জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের করোনাভাইরাস পরীক্ষাগার থেকে পিরোজপুরের সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এ নিয়ে জেলায় ১৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন।আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়েছেন। তবে নতুন করে আক্রান্ত ছয়জনের করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ নেই। তাঁদের মধ্যে দুজন সদর উপজেলার বাবা ও ছেলে এবং তিনজন ভান্ডারিয়া উপজেলার বাবা–মা ও ছেলে। এ ছাড়া বাকি একজন সদর উপজেলার।
পিরোজপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত ছয়জনের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পিরোজপুর সদর উপজেলায় বাবা ছেলেসহ তিন জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাঁরা সম্প্রতি ঢাকা থেকে বাড়ি যান। ভান্ডারিয়া উপজেলায় এক পরিবারের তিনজন বাবা–মা ও ছেলের নমুনা নেওয়া হয়। রাজধানী ঢাকার একটি ক্লিনিকে ছেলের পক্ষাঘাত রোগের চিকিৎসা শেষে ২ মে তাঁরা ভান্ডারিয়া উপজেলায় ফিরেন।গত বুধবার তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. হাসনাত ইউসুফ জাকী বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা না দেওয়ায় বাড়িতে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। তবে শ্বাসকষ্ট সহ করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হবে।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িগুলো লকডাউন করা হয়েছে। তাঁদের সরকারীভাবে খাদ্য সামগ্রীসহ সব ধরণের সহায়তা দেওয়া হবে।
এ পর্যন্ত জেলায় ৪১৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ৩৪৫ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। পিরোজপুর সদর উপজেলায় আটজন, ভান্ডারিয়া উপজেলায় সাতজন, মঠবাড়িয়া উপজেলায় একজন ও কাউখালী উপজেলায় একজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ভান্ডারিয়া উপজেলায় দুজন ও মঠবাড়িয়া উপজেলার একজন সুস্থ হয়েছেন।