
কাতারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, প্রবাসে যাঁরা বেআইনি কাজ করবেন, তাঁদের ধরিয়ে দেবেন।
কাতার সফরে গিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটি কাতারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে ৮ মার্চ নাজমায় একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমদ এবং কাতার প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সামাজিক মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি হাসান আলওবায়দালি।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাতটি সেবামূলক বিভাগ নিজেদের কার্যক্রম প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে তুলে ধরে।
প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, ‘আমি হাততালির জন্য বক্তৃতা করি না। আমি যেটা অন্তরে অনুভব করি, সেটাই বলি। আমাকে যেহেতু এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কাজেই আমি আমাকে আপনাদেরই একজন হিসেবে রাখতে চাই, যাতে আমি আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি। সে লক্ষ্যেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’
সাধারণ শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই সাধারণ শ্রমিকদের কথা কেউ শোনেন না। আমি যেখানেই যাই অন্তত তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে ও কথা শুনতে চেষ্টা করি। কাতারেও আজ এমন সাধারণ শ্রমিকদের ক্যাম্প ও কর্মক্ষেত্রে গিয়ে আমি তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছি। এই শ্রমিকেরা তাঁদের উপার্জনের ৯৯ ভাগ দেশে পাঠিয়ে দেন। তাঁদের কথা আমাদের ভাবতে হবে এবং পাশে থাকতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই মাসের মধ্যে ২০ দিন আমি দেশের বাইরে। প্রবাসীদের কাজে বিভিন্ন দেশে গিয়েছি। আমার সঙ্গে দুজন যুগ্ম সচিব আছেন, যাতে প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে দ্রুত পথ খুঁজে বের করা যায়। আমাদের মধ্যে যদি আন্তরিকতা না থাকে, তাহলে কোনো সমস্যাই আমরা সমাধান করতে পারব না।’
বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের চেহারা বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বদলে যাওয়ার সঙ্গে আমাদের টিকে থাকতে হবে এবং নতুন কৌশলে কাজ করতে হবে। কাতারে দিন বদলে যাচ্ছে, কাজেই আমরা যদি না বদলাই, তাহলে সেটা দুঃখজনক হবে।’ তিনি প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও দেশে বিনিয়োগসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন।
প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়ে ইমরান আহমদ বলেন, অভিযোগ না করে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া সমাধান নয়। বরং হয়রানির সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করার সুযোগ না হলেও পরে এসে অভিযোগ জানান।
মাদক ও ইয়াবা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ইমরান বলেন, ‘এখন শুনছি, বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যেও ইয়াবা এসে হাজির হয়ে গেছে। কাতারে যদি এসে থাকে, তবে সেটি তো আমরাই এনেছি। আমাদের ভেবে দেখা উচিত, আমরা কি দুই-চারজনের জন্য ইয়াবা জাতি হয়ে যাব? এ ধরনের কাউকে দেখলে অবশ্যই পুলিশকে জানাবেন এবং যারা বেআইনি কাজ করবে তাদের ধরিয়ে দেবেন।’
প্রতিমন্ত্রী সবাইকে তাঁর ই-মেইলে অভিযোগ ও পরামর্শ জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি আমার ই-মেইলে পাঠান। আমি নিজে সেগুলো দেখার চেষ্টা করব।’
রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘কাতারে বাংলাদেশিদের হাতে বাংলাদেশি নির্যাতিত হচ্ছে। আমরা এটা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। বাংলাদেশি কমিউনিটির আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হই, তবে কাতারের বুকে অন্যান্য দেশকে সরিয়ে বাংলাদেশি হিসেবে আমরা এক নম্বর কমিউনিটি হতে পারি।’ এ সময় তিনি মাদক বিষয়ে সবার সচেতনতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশি কমিউনিটি কাতারের সভাপতি প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে হামাদ আলমাররি বক্তব্য দেন। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির আঞ্চলিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে বাংলাদেশি কমিউনিটি কাতারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে কেক কাটায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ও অতিথিরা।