পাঁচ বছর আগের মামলার তদন্ত

ফয়সাল মোরশেদ খানকে দুদকে তলব

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের ছেলে ফয়সাল মোরশেদ খানকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে তাঁকে তলব করেন সংস্থাটির উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, ফয়সাল মোরশেদকে ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় দুদকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে এম মোরশেদ খান, তাঁর স্ত্রী নাছরিন খান ও ছেলে ফয়সাল মোরশেদ খানকে আসামি করে অর্থ পাচার আইনে মামলা করে দুদক। ওই মামলার পুনঃতদন্তের অংশ হিসেবে তাঁকে তলব করা হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা বিদেশে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং ওই হিসাবগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অনুমোদন নেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে বৈদেশিক মুদ্রা রেখে বেআইনি কার্যকলাপ করেছেন। আসামিদের উপার্জিত বৈধ অথবা অবৈধ অর্থের উৎস গোপন রেখে তা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার ও রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন।

অভিযোগে দুদক বলেছে, এম মোরশেদ খান, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের মালিকানাধীন ফার ইস্ট টেলিকমিউনিকেশনস লিমিটেডের নামে হংকং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে সাতটি মাল্টি কারেন্সি অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ইউএসডি কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, একটি ইউএসডি সেভিংস অ্যাকাউন্ট, চারটি ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট ও একটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এ ছাড়া হংকং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে এম মোরশেদ খানের নিজ নামে একটি ইউএসডি সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং একটি এইচকেডি (হংকং ডলার) সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে। অনুরূপভাবে হংকং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ফয়সাল মোরশেদ খানের নিজ নামে একটি ইউএসডি সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং একটি এইচকেডি (হংকং ডলার) সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এ সব অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময় তাঁরা তিন কোটি ৯৫ লাখ ৬২ হাজার ৫৪১ মার্কিন ডলার ও এক কোটি ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৩ হংকং ডলার পাচার করেছেন। বাংলাদেশি অর্থে এ পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩২১ কোটি টাকা। আসামিরা ২০০১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময়ে এসব অর্থপাচার করেন। মামলাটির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ ছিল। পরে এ মামলার অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে ২০১৫ সালে দুদক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এর পর আদালত তাদের অব্যাহতি দিলে মোরশেদ খানসহ তিনজনের অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়। আদালতের অব্যাহতি আদেশের পর ঢাকার বিশেষ আদালতে দুদকের পক্ষ থেকে নারাজি আবেদন করা হলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। বিচারিক আদালতের এ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে দুদক হাইকোর্টে একটি রিভিশন আবেদন করে। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ৫ জুন ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে মোরশেদ খানের করা লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। চলতি বছরের ৮ মার্চ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় মামলার পুনঃতদন্ত করছে দুদক।