
কদিন পরই শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। প্রেস পাড়াগুলোয় খটখট আওয়াজ। বই ছাপানোর ব্যস্ততা চলছে পুরোদমে। আর বাঁধাইখানাগুলোয় চলছে বই কারিগরদের কাজ। বইমেলা যেখানে হবে সেই বাংলা একাডেমিতেও চলছে উৎসব শুরুর পূর্ব-মুহূর্তের ব্যস্ততা। সময়মতো পাঠকের হাতে বই তুলে দিতে চারদিকে যেন উৎসবের ব্যস্ততা।
বইয়ের পাড়া রাজধানীর বাংলাবাজারে প্রকাশক থেকে শুরু করে মুদ্রণ, বাঁধাই ও পরিবহনসহ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষ প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
ছাপাখানা ও বাঁধাইখানাগুলোয় এই ব্যস্ততা গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। বইমেলার তারিখ যত এগিয়েছে, ব্যস্ততা তত বেড়েছে। ছাপাখানার মালিকেরা বলেছেন, কাজের চাপ এত বেশি যে ২৪ ঘণ্টা প্রেস চালু রাখতে হচ্ছে। অনেক মালিক কাজের চাপে লেখকদের ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বই ছাপার নতুন কাজের ফরমাশ বাতিল করে দিচ্ছেন। তবে কেউ কেউ নতুন কাজের ফরমাশও নিচ্ছেন। মার্চ মাস পর্যন্ত তাঁদের এই ব্যস্ততা থাকবে।
বাংলাবাজার, সূত্রাপুর, পুরানা পল্টন, নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, নীলক্ষেত, কাঁটাবনের ১২টি ছাপাখানা ঘুরে দেখা যায়, নতুন বই ছাপাতে ধুন্ধুমার ব্যস্ততা। কথা বলার সময় নেই কারও। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বই ছাপার কাজ চলছে। এ যেন পাঠকের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার উৎসব।
পুরান ঢাকার প্যারীদাস রোডের সরু গলিতে হাঁটতেই দেখা গেল, ভ্যানে করে কাগজের স্তূপ টানা হচ্ছে। সেখানে শোনা গেল, ছাপাখানার খটখট শব্দ। ছাপাখানাগুলোর ভেতরে গাদা গাদা কাগজ। একটি ছাপাখানায় ঢুকতেই রঙের ঝাঁজালো গন্ধ নাকে এসে লাগল। ছাপার যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসছে সদ্য ছাপা হওয়া কাগজের বড় শিট। এরপর এগুলোকে বাঁধাইখানায় নেওয়া হচ্ছে। কেটে বাঁধাইয়ের পর নতুন বইগুলো প্রকাশনগুলোর দোকান ও গুদামে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। সূত্রাপুরের গোপাল শাহ লেনের একুশে প্রিন্টার্স। প্রতিষ্ঠানটি এবারের বইমেলা উপলক্ষে পার্ল পাবলিকেশন, তাম্রলিপি, অনুপম, দিব্য প্রকাশসহ ১৫টির বেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ছাপার কাজ করছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি বাই কালার ছাপার যন্ত্রে ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন।
একুশে প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী পারভেজ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিনই বই ছাপার নতুন অর্ডার আসছে। কাজের চাপ এত বেশি যে নভেম্বর থেকে দুই পালায় ২৪ ঘণ্টা প্রেস চালু রেখেছি। শ্রমিকেরা পালাবদল করে কাজ করছেন।’ বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতি বলছে, বাংলাবাজার, সূত্রাপুর, গোপীবাগ, ফকিরাপুল, পুরানা পল্টন, নয়াপল্টন, নীলক্ষেত ও কাঁটাবনে বইমেলার কাজ চলছে। এ এলাকাগুলোয় প্রেসের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০। মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রকাশক ব্যবসায়ীরা অক্টোবর-নভেম্বর থেকেই বই ছাপা শুরু করেন। তবে মৌসুমি প্রতিষ্ঠান ও লেখকদের কারণে শেষের দিকে ছাপাখানাগুলোয় চাপ বেশি থাকে।
বাংলা একাডেমিতে প্রস্তুতি
গত বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, পুরোদমে চলছে মেলা উপলক্ষে স্টল তৈরির কাজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। গতবার বৃষ্টিতে প্রকাশকদের বই নষ্ট হয়েছে, তাই এবার স্টলের ছাতে টিন ব্যবহার করা হচ্ছে। ১ তারিখের আগেই স্টলের সব কাজ শেষ করা হবে বলে জানান মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, এবারের বইমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি ১০১টি বই প্রকাশ করবে। মেলার দুই পাশের প্রাঙ্গণে ৪০১টি প্রতিষ্ঠানের ৬৫৯টি স্টলের কাজ চলছে।