বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিশেষ বিধান নিয়ে রুল

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিশেষ বিধান প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার এই রুল দেন।
রুলে ২০১৭ সালের আইনটির বিশেষ বিধান কেন সংবিধানের সঙ্গে বৈষম্যমূলক ও সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং শিশু-নারী অধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার (অতিরিক্ত প্রটোকল সিআরসি, সিডও, এসডিও) ও দেশের আইনের সঙ্গে কেন অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আইনসচিব এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ১১ মার্চ বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ করা হয়। বিশেষ বিধান হিসেবে আইনের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছুই থাকুক না কেন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ ও পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে বিয়ে সম্পাদিত হলে তা এই আইনের অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে না।
বিশেষ বিধানের (ধারা ১৯) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও নারীপক্ষ হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করে, যা সোমবার শুনানির জন্য ওঠে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
শুনানিতে ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিশেষ বিধানের বিরুদ্ধে আবেদনটি করা হয়েছে। আদালত বলেন, আগের আইন রহিত করে চলতি বছর আইনটি সংশোধন করা হয়। এরপর আইনের বিশেষ বিধান ১৯ পড়ে শোনান আইনজীবী। আদালত বলেন, বিধি হয়েছে কি না? জবাবে ফাওজিয়া করিম বলেন, বিধি হয়নি। আইনের ৮ ধারায় বাল্যবিবাহ-সংশ্লিষ্ট পিতা-মাতাসহ অন্যান্য ব্যক্তির শাস্তির কথা বলা আছে। আর ৭ ধারায় বাল্যবিবাহ করলে কী শাস্তি হবে, তা-ও বলা আছে। অথচ বিশেষ বিধানের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিয়ে দেওয়া যাবে। আদালত বলেন, ওখানে আদালতের অনুমতি নেওয়ার কথা আছে।
ফাওজিয়া করিম বলেন, বাংলাদেশ বাল্যবিবাহের দিক থেকে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে। বিশেষ বিধানের কারণে বাল্যবিবাহের হার বেড়ে যাবে। বিশেষ বিধানে আছে, বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে কমবয়সী ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে। অথচ ছেলেমেয়েরা যদি নিজে পছন্দ করে কোনোভাবে বিয়ে করে, তবে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এটি সাংঘর্ষিক। দণ্ডবিধির একটি ধারার সঙ্গেও বিধানটি সাংঘর্ষিক। আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ নয়।
ফাওজিয়া করিম বলেন, আদালত রুল দিতে পারেন। অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) নিয়ে এর ইতিবাচক-নেতিবাচক দিকগুলো পর্যালোচনা করতে পারেন। এটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। পাস হওয়ার আগে সংসদে এ নিয়ে বিতর্ক হতে দেখা যায়নি। বিধানটি নারী স্বার্থের বিপক্ষে যায়।
আদালত বলেন, বিশেষ বিধানটি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দেখাতে পারেন? জবাবে সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে ফাওজিয়া করিম বলেন, নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না। শুনানি নিয়ে আদালত রুল দেন।