
মাগুরা সদর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খন্দকার লুৎফর রহমানের (৭০) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার পুখুরিয়া গ্রামে জমিতে পানি দেওয়ার সময় তিনি শিয়াল ধরার ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
নিহত খন্দকার লুৎফর রহমানের বাড়ি উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে।
সদর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, পুখুরিয়া গ্রামে একটি ফসলি জমিতে খন্দকার লুৎফর রহমানের লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। সোমবার রাত আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল বাতেন। তিনি প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, খন্দকার লুৎফর রহমানের জমির দুপাশে দুটি পোলট্রি মুরগির খামার রয়েছে। খামারে শেয়ালের আক্রমণ ঠেকাতে জিআই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমিতে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ওই কৃষক।
এদিকে নিহতের জামাতা মো. বিল্লাল হোসেন ও ভাই খন্দকার আবদুল বারি অভিযোগ করেছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁরা জানান, তাদের জমির দুই পাশে সোহাগ খান নামে একজনের দুটি পোলট্রি মুরগির খামার রয়েছে। এই জমি নেওয়ার জন্য সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন। এই চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েই সেখানে উন্মুক্ত বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল।
নিহতের ভাই খন্দকার আবদুল বারি বলেন, জমি বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এ কাজ করা হয়েছে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সাজেদুল ইসলাম (২৫) ও আশরাফুল ইসলাম (১৮) নামে খামারের দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। আজ দুপুরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ দায়ের করলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।