
মশা মারার জন্য সরকারের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর। কিন্তু মশা মারার সক্ষমতা ও লোকবল তাদের নেই। এই দপ্তরের সক্ষমতা বাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে রূপান্তর করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনার এই অধিদপ্তর মশার ওষুধ নির্ধারণ, রোগসংশ্লিষ্ট গবেষণা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং মশকনিধনে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞদের এমন পরামর্শকে আমলে নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান মশক নিবারণী দপ্তরের সক্ষমতা নেই। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আওতাভুক্ত এলাকায় কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনার কৌশল নির্ধারণে একটি কমিটি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি সারা দেশে মশক নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণ করবে। কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মশা ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের বিস্তার রোধে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা–বিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে দেওয়া আছে। তাই মন্ত্রণালয়কে দায়ী করা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মশাসহ ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কর্মপরিকল্পনা করা হচ্ছে।
কীটতত্ত্ববিদ মঞ্জুর চৌধুরী বলেন, মশকনিধন কার্যক্রম সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আর এই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তের ৫০ শতাংশ ঢাকার বাইরের। কিন্তু ঢাকার বাইরের পৌরসভাগুলোর মশকনিধনে কোনো সক্ষমতাই নেই।
কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দীন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে, সিটি করপোরেশন মশক নিয়ন্ত্রণ করছে, আইইডিসিআর গবেষণা করছে। সবাই নিজ নিজভাবে কাজ করছে।
আলোচনায় অংশ নেন নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এ কে এম আজাদ।