
করোনা পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে প্রায় দুই মাস ধরে মাঠে কাজ করছেন প্রায় ২০০ তরুণ। তাঁদের মধ্যে শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী, কর্মজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনাদানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার ছাতক পৌরসভায় ৪টি ও ১৩টি ইউনিয়নে রয়েছে একটি করে স্বেচ্ছাসেবক দল। প্রতিটি দলে সদস্য আছেন ১০ থেকে ১৪ জন।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, তাঁরা সামাজিক দূরত্ব, হোম কোয়ারেন্টিন ও লকডাউন নিশ্চিত করা, সরকারি-বেসরকারি সহায়তা বিতরণ, বিপদগ্রস্ত মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ, রোগীদের হাসপাতালে পাঠানো, করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফন ও দাহ, গ্রামে গ্রামে ঘুরে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করছেন। এসব করতে গিয়ে পাঁচজন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন।
ছাতক পৌর শহরে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক দলটির নেতা মৃদুল দাস বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে মানুষের জন্য, দেশের জন্য কিছু কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত। এটা তো শুধু স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন কিংবা পুলিশের কাজ নয়, এটা সব মানুষের কাজ। আমাদের কাজে সবাই সহযোগিতা করছেন।’
নোয়ারাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা খালেদ হাসান। তিনি জানান, তাঁর দলের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার্থী বেশি। এলাকায় এখন করোনাসংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে মানুষ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরাও তাঁদের সহযোগিতা করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও উৎসাহ দেওয়া হয়।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঠে কাজ করছেন তাঁরা। এই উদ্যোগের মূলে আছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম কবির। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
ইউএনও গোলাম কবির বলেন, ৫০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের জন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আগ্রহীদের যোগাযোগ করতে ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১ হাজার ৭৫ জন আগ্রহ প্রকাশ করেন। এখন কাজ করছেন ১৯৩ জন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁরা কাজ করছেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের চেয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের কথায় গুরুত্ব দেন বেশি। শুরুতে ভাবতে পারেননি এভাবে সাড়া পাবেন।