মালিকদের সতর্ক করতে কাল মাঠে নামছে ফায়ার সার্ভিস

বগুড়া শহরের চাঁদনীবাজার এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবন। ছবি: প্রথম আলো
বগুড়া শহরের চাঁদনীবাজার এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবন।  ছবি: প্রথম আলো
>

• বগুড়ায় ১০৯টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ
• প্রাথমিক পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে সতর্ক করা হবে
• সতর্ক না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অগ্নিনির্বাপণ–ব্যবস্থার দিক থেকে প্রায় এক বছর আগে বগুড়ার ১০৯টি পাকা ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ভবন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের শর্তগুলো পূরণ না করায় সে সময় ভবনের মালিকদের সতর্কও করা হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি। জেলা ফায়ার সার্ভিস বলছে, এবার বিষয়টি দেখার জন্য ‘পরিদর্শন টিম’ গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে আগামীকাল রোববার থেকে সতর্ক করা হবে। সতর্ক না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বগুড়া জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ১০৯টি ভবনের একটি তালিকা তৈরি করে। এর মধ্যে ৬৭টি হলো মার্কেট ও শপিং মল এবং ৪২টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে।

জেলা ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এসব ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণের দিক সম্পর্কে অবহিতও করা হয়েছে। এতে কাজ না হওয়ায় গত সপ্তাহে জেলা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সংস্থাটির একজন উপপরিচালক, একজন জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা ও একজন ওয়্যার হাউস কর্মকর্তার সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি ক্লিনিক ও হাসপাতাল পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার এই ১০৯টি ভবন ছাড়াও পৌরসভার অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে অর্ধশতাধিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্তত ১০টি বহুতল ভবন রয়েছে। শহরের ৪২টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বেসমেন্ট এবং সেমি বেসমেন্টের সংখ্যা, পানি রির্জাভের ধারণক্ষমতা, সাধারণ ও জরুরি সিঁড়ির সংখ্যা, ফায়ার লিফট, জেনারেটরসহ বিভিন্ন বিষয়ে অপ্রতুলতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এই হাসপাতালগুলোতে ফায়ার ফাইটিং পাম্পও নেই। শহরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শামছুন্নাহার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আল-আরাফা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ৪২টি সেন্টার পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস এগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান ও ভবনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের মাঝামাঝিতে ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।

ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় থেকেও বগুড়ায় একাধিক ভবন নতুন করে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কের ছমির উদ্দিন ও বাবু মিয়া নিউমার্কেট এলাকা। ছমির উদ্দিন মার্কেটটি ওয়াকফের আওতায়। এই মার্কেটে প্রায় ৩৬ বছর ধরে মোতোয়ালির দায়িত্বে রয়েছেন নওশাদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে পৌরসভাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে।’

বগুড়া ক্লিনিক মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জি এম সাকলাইন জানান, আসলে বগুড়ায় বিভিন্ন বাড়ি ভাড়া নিয়েই বেশির ভাগ ক্লিনিক–হাসপাতাল চলছে। এ করণে এসব বাড়িতে ফায়ার সার্ভিসের শর্তগুলো পূরণ করা সম্ভব হয় না।

বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. আবদুর রশিদ বলেন, ‘হাসপাতাল ও মার্কেট জনবহুল এলাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনির্বাপণের সুযোগ–সুবিধা একেবারেই নেই। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে বড় আকারে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়গুলো সমাধান হওয়া দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ভবন নির্মাণের সঙ্গে পৌরসভার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ কারণে পৌরসভার সঙ্গে বসার জন্য গত জাতীয় নির্বাচনের আগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বসা হবে। তাদের কাছ থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নতুন তালিকা পাওয়া যাবে।