মেডিকেল প্র্যাকটিস রেগুলেশন

নতুন আইনের অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

হাইকোর্ট
ফাইল ছবি

১৯৮২ সালের দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশের বিধানগুলো যুগোপযোগী করে একটি নতুন আইন প্রণয়নের কাজ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য এসেছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মঙ্গলবার ওই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ বিষয়ে অগ্রগতি ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।

এক রিটের ধারাবাহিকতায় ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) গত ৩ মার্চ স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনের ভাষ্য, বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে প্রাথমিকভাবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফি (ইউজার ফি) নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সভা করে ফি নির্ধারণের কাজ শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে টারশিয়ারি লেভেলের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহেও এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। শুধু প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, অন্যান্য সেবামূল্য (অপারেশন, ইন্টারভেনশন ইত্যাদি) নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী বশির আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, অধ্যাদেশের বিধান যুগোপযোগী করে একটি নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফি (ইউজার ফি) নির্ধারণের অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন আদালত। ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে এসব তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।

দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ -১৯৮২’ যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস ল’ইয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিং এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ মো. শাহ আলম ২০১৮ সালের জুনে ওই রিটটি করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৪ জুলাই হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। আইন অনুসারে দেশের বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতাল ল্যাবরেটরি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরীক্ষাসহ চিকিৎসা সেবা বিষয়ক মূল্য তালিকা ও ফি ওখানকার পাবলিক প্লেসে (প্রকাশ্য জায়গায়) ১৫ দিনের মধ্যে টানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই অধ্যাদেশ অনুসারে বিধিমালা তৈরি করতে বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করতে বলা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৭ মার্চ এক আদেশে আদালত দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে কতগুলো আইসিইউ ও সিসিইউ আছে, এসব স্থাপনে কত টাকা খরচ হয়, কি পরিমাণ লোকবল ও বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এ অনুসারে আদালতে প্রতিবেদন জমা পড়ে। এতে বলা হয়, বেসরকারি হাসপাতালে ৫৭৩টি আইসিইউ ও ৩৪৪টি সিসিইউ বেড রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ৩৪০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ নয়। এসব তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান।

গেল বছরের জুনে শুনানিতে ১৯৮২ সালের ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী নীতিমালা প্রণয়ন বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে জানতে চান আদালত। তখন নীতিমালা প্রণয়ন বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ একটি সভার মতামত তুলে ধরেন। এর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পুরোনো অরডিন্যান্স রহিত করে যুগোপযোগী করে স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০১৯ প্রণয়নের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। আইন প্রণীত হওয়ার পর ওই আইনের আলোকে বিধিমালা বা গাইডলাইন প্রণয়ন করা যুক্তিযুক্ত।

পরবর্তীতে রিটের শুনানিতে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অধিদপ্তরের পরিচালককে (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। দেশের সব জেলা সদরের সরকারি হাসপাতালে ৩০ শয্যার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) স্থাপনে পদক্ষেপের অগ্রগতি জানাতে তাদের হাজির হতে বলা হয়। পরে তারা আদালতে উপস্থিত হন।

এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালত আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপনের অগ্রগতি, নীতিমালা প্রণয়ন ও মূল্যতালিকা নির্ধারণের কার্যক্রমের অগ্রগতি ৬০ দিনের মধ্যে জানাতে বলেন। এ অনুসারে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৮২ সালের দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশের আলোকে যদিও একটি খসড়া নীতিমালা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু ওই অধ্যাদেশের বিধানগুলো যুগোপযোগী করে একটি নতুন আইন প্রণয়নের কাজ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে। তাই নতুন করে নীতিমালা প্রণয়নের কোনো প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া ৩৬ শয্যার আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব করে নতুন প্রস্তাবিত ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহের জন্য ডিপিপি প্রস্তুত করার কাজ অনেকগুলোতে শেষ হয়েছে এবং বাকিগুলোতে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলমান আছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।