
জামালপুরে যমুনার পানি কমছে খুব ধীর গতিতে। যেটুকু কমছে তাতে বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরেই রয়েছে এখনো। যে কারণে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও মাঠঘাটে এখনো রয়েছে বন্যার পানি। প্রায় সাড়ে নয় লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থাতেই রয়েছে। খাবারের সংকটসহ নানা দুর্ভোগে রয়েছেন বানভাসি মানুষেরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আবদুল মান্নান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ১১ সেন্টিমিটার পানি কমে রোববার সকাল ৬টার দিকে বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। খুব ধীর গতিতে পানি কমছে। যেটুকু পানি কমছে, তাতে বন্যা পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হচ্ছে না।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সাতটি উপজেলার ৫১টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি পৌরসভাও বন্যাকবলিত হয়েছে। ওই ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৬৫৩টি গ্রামের ৯ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৭ জন মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮ হাজার ৮২০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী বলেন, বন্যার্ত মানুষের জন্য ইতিমধ্যে জেলায় ৩১০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৪ হাজার শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও শিশু খাদ্যের জন্য ২ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ হচ্ছে।