শ্রমিক-মালিক দ্বন্দ্বের জেরে যশোর শহরের ৩৮টি হোটেল-রেস্তোরাঁ সাত দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা বলছেন, সরকারি গেজেট অনুযায়ী ঈদের বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত না মেনে মালিকপক্ষ রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। তবে মালিকপক্ষ বলছে, শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ রয়েছে।
যশোর জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন গত মঙ্গলবার শহরে মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়। তাতে বলা হয়, শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে গত ৩০ জুন জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অতিরিক্ত জেলা হাকিম মুহম্মদ সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়। এতে জেলা হোটেল মালিক সমিতি, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ঈদের আগে শ্রমিকদের মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসবভাতা ও সাত দিনের মধ্যে পরিচয়পত্র দিতে হবে। তবে ১৪টি হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক এ সিদ্ধান্ত মানেননি। তাঁরা ঈদের আগের দিন থেকে হোটেল বন্ধ করে দেন। ঈদের পর হোটেল মালিক সমিতি আরও কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেয়।
জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাইজেল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ২০০৯ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী, হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের মূল বেতনের সমপরিমাণ দুই ঈদের উৎসবভাতা, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা। কিন্তু যশোরের কোনো রেস্তোরাঁর মালিকই তা মানেন না।
জেলা হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুকুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকদের উৎসবভাতা দেওয়া আমাদের সাধ্যের বাইরে। আমরা গত বছরের মতো শ্রমিকদের থোক বোনাস দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা তা নেননি। শ্রমিকেরা কাজ করছেন না। ফলে সমিতিভুক্ত ৩৮টি হোটেল সাত দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।’
গতকাল বুধবার শহর ঘুরে দেখা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মূল ফটকের পাশের ভৈরব হোটেল, চিত্রা মোড়ের ক্যাফে মদিনা, লালদীঘিপাড়ের নুরু হোটেল, মণিহার প্রেক্ষাগৃহ এলাকার কনিকা হোটেলসহ বিভিন্ন এলাকার খাবারের বড় হোটেলগুলো এখনো বন্ধ রয়েছে। এতে দূরদূরান্ত থেকে জেলা শহরে চিকিৎসাসেবা ও দাপ্তরিক কাজে আসা মানুষ খাবারের জন্য চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলায় ছোট-বড় মিলে ৬৬টি হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি হোটেল মালিক সমিতির অধিভুক্ত। কার্যালয়ের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) মো. শওকত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যেসব হোটেলের মালিক ঈদের বোনাস না দিয়ে হোটেল বন্ধ রেখেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।