পর্যাপ্ত পদ না থাকার পরও সরকারের শেষ সময়ে জনপ্রশাসনে আরও ৭০ জন উপসচিবকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (এপিডি) মুহিবুল হক।
এর আগে গত ১৮ জুলাই ৩২৬ উপসচিবকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে যুগ্ম সচিবের সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ১৩ জনে। অথচ যুগ্ম সচিবের পদ আছে মাত্র ৪৩০টি।
আগের বার কয়েক দফায় পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের শেষ বেলায় খুশি রাখার জন্যই এই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে
প্রথম আলোকে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৯৮২ বিসিএস প্রশাসন ব্যাচের তিনজন, ১৯৮৪ বিসিএস ব্যাচের ১৪ জন, ১৯৮৫ ব্যাচের ২৪ জন, ১৯৮৬ ব্যাচের ২০ জন ও অন্যান্য ক্যাডার থেকে আসা নয়জন পদোন্নতি পেলেন।
এর পরও এই তিন ব্যাচের বেশ কিছু যোগ্য কর্মকর্তা পদোন্নতি পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯৮২ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো উপসচিবই রয়ে গেলেন। যাঁরা কেবল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে জেলা প্রশাসক হওয়ার কারণে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ আছে। এ ছাড়া ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তাও বাদ পড়েছেন। যাঁদের মধ্যে কয়েকজন মুুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাও রয়েছেন।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় নম্বর না থাকায় সবাইকে পদোন্নতি দেওয়া যায়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ১৮ জুলাই পদোন্নতির পর কয়েকটি ব্যাচ থেকে পদোন্নতি পর্যালোচনার দাবি ওঠে।
বঞ্চিতরা পদোন্নতি চায়: এদিকে বিসিএস ১৫তম ব্যাচের পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা পদোন্নতির জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবের সঙ্গে গত রোববার দেখা করে তাঁদের পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে দুই সচিবই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে দেখা করতে যাওয়া একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ ব্যাচের বঞ্চিত কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের বরাবর লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন।